| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ফরিদুল ইসলাম গ্রামে…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গঠিত সংস্থাকে সরকার বলে।
যে শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করে তাকে গণতন্ত্র বলে।
গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। Demos অর্থ জনগণ আর Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা। সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের শাসন ক্ষমতা'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি, আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln) গণতন্ত্র সম্পর্কে বলেন- “জনসাধারণের কল্যাণের জন্য, জনসাধারণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিমূলক শাসনব্যবস্থা।” গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা হয়।
উদ্দীপকের এ ঘটনাটির মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। ই-গভর্নেন্সের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে-
ই-গভর্নেন্সের বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ই-গভর্নেন্স তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী শ্রেণি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন অঙ্গ ও সংস্থার মধ্যে সরকারের সেবাসমূহের আদান-প্রদান, অন্যান্য লেনদেন, মিথস্ক্রিয়া প্রভৃতি পরিচালিত করে থাকে। এছাড়া ই-গভর্নেন্স প্রযুক্তি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজতর করে। এতে করে প্রান্তিক নাগরিকদের পক্ষেও উন্নত সেবা পাওয়া সহজ হয়। ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে নাগরিকগণ সেবাপ্রাপ্তির পাশাপাশি সেবার মান বিষয়ে মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ সরকারকে জানাতে পারে।
উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। যা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) সহায়তা করে। তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো যায়। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও এটি ই-গভর্নেন্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়গুলো হলো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনগণের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতার অভাব। এই সমস্যাগুলো দূর করতে হলে শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকার যদি এই কারিগরি ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে, তবেই ই-গভর্নেন্সের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব।
উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম অনলাইন সুবিধা পেলেও অনেক গ্রামীণ মানুষ এখনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে এসব সেবা গ্রহণ করতে হিমশিম খায়।
এছাড়া অনেক সময় সার্ভার জটিলতা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রসারে কাজ করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং সুশাসন সুসংহত হবে, যা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য অপরিহার্য।