ফুটফুটে কিশোরী নীলা কথা বলতে পারে না। কিন্তু নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে চায়। সবার মনের ভাষা সে বুঝতে পারে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে। লোকে তাকে ঠাট্টা করে। সে কষ্ট পায়। এতে তার মা বিরক্ত হয়। সে ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।
সুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।
নিজ গৃহপরিবেশ ও চেনা-জানা প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকার কারণে সুভা অচেনা জায়গা কলকাতায় যেতে চায় না।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। ফলে তার সঙ্গে সমবয়সি কেউ মেশে না, খেলে না। তার বিশাল এক আশ্রয়ের জগৎ রয়েছে। পোষা প্রাণীদের এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সখ্য। বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির আনন্দ। বাড়ির চারপাশের প্রকৃতি ও নদীতীরের চারপাশ তার মায়ের মতোই আপন। তাই সে তার এ নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের জগৎ ছেড়ে অনিশ্চয়তার অচেনা কলকাতায় যেতে চায় না।
১৫. উদ্দীপকের নীলার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বাক্প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক অবহেলার দিকটিতে সাদৃশ্য রয়েছে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। সবাই তাকে নিয়ে নেতিবাচক দুশ্চিন্তা করে। তখন সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করে এবং আত্মগোপন করে থাকতে চায়।
উদ্দীপকের কিশোরী নীলা কথা বলতে পারে না। লোকে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। এতে তার মা বিরক্ত হয়। সে কষ্ট পায় এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। প্রতিবন্ধী হলেও সে সবার মনের ভাষা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বুঝতে পারে। 'সুভা' গল্পে সুভাও বাক্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে না পারলেও বোধশক্তি দিয়ে অনেক কিছুই বুঝতে পারে। সুভার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও সে যে আচরণ পায় তাও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মূলত উদ্দীপকের নীলা ও 'সুভা' গল্পের সুভা উভয়ই বাক্প্রতিবন্ধী। এ কারণে তারা পরিবার ও সমাজের বৈরী আচরণের শিকার। এ দিক থেকে দুজনের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. উদ্দীপকে নীলা ও 'সুভা' গল্পের সুভা উভয়ে বাক্প্রতিবন্ধী সত্ত্বেও প্রখর অনুভূতিশীল ছিল বিধায় বলা যায়, "শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানবিক অনুভূতির অন্তরায় নয়" উক্তিটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে সুভা ছিল বাক্প্রতিবন্ধী। সে জন্ম থেকেই কথা বলতে পারত না। কিন্তু তার অনুভূতি ছিল তীক্ষ্ণ। সবার নেতিবাচক কথাবার্তায় বুঝত যে সে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ পিতৃগৃহে জন্ম নিয়েছে। তাই সে আত্মগোপন করে থাকতে চাইত। নির্বাক প্রকৃতির সঙ্গে ছিল তার অন্তরঙ্গতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গল্পে মূলত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকে নীলা কথা বলতে পারে না। এ কারণে লোকে তাকে ঠাট্টা করে। এতে তার মা বিরক্ত হয়। নীলা বাক্প্রতিবন্ধী হলেও অনুভূতিপ্রবণ। সে নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে চায়। অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সে সবার মনের ভাষা বুঝতে পারে। 'সুভা' গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। এ কারণে তার প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করে। নিজের মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। সমবয়সিরা তার সঙ্গে মেশে না, খেলে না। সুভা একজন অনুভূতিপ্রবণ মানুষ। সবার এমন আচরণে সে কষ্ট পায়। প্রকৃতির সঙ্গে সে সখ্য গড়ে তোলে। অবলা প্রাণীরা তার বন্ধু হয়ে ওঠে।
'সুভা' গল্পের সুভা কথা বলতে না পারলেও প্রকৃতি ও অবোধ প্রাণীর সঙ্গে সে অনুভূতির সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারাই তার আশ্রয়। উদ্দীপকের নীলা কথা বলতে না পারলেও সুভার মতো অনুভূতিপ্রবণ। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তাদের মানবিক অনুভূতিকে নষ্ট করতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, মন্তব্যটি যথার্থ।
