| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’G’ রাষ্ট্রে ইভটিজিং,…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘G’ রাষ্ট্রে ইভটিজিং, নারী নির্যাতন এবং মাদকের ব্যবহার চরম আকার ধারণ করে। সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনগণকে সচেতন করে তোলে। জনগণ বিভিন্নভাবে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। এতে সরকার প্রভাবিত হয় এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটার বা নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কোনো দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে বোঝায় ।
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড তার 'The Civic Culture' গ্রন্থে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। তার মতে, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির রূপ ও প্রতিকৃতি।' অর্থাৎ কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সে দেশের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করছে সেটার ধরনই হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি দেখে সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। কোনো অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক বিষয়ে কী চিন্তা করে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যদিয়েই প্রকাশিত হয়।
উদ্দীপকে আমার পঠিত জনমতের ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে।
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাধারণ জনগণের মতামতকে জনমত বলে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে জনমত একটি স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে। জনমত বলতে জনকল্যাণকর ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রধান প্রধান জাতীয় সমস্যার ওপর জনসাধারণের প্রভাবশালী অংশের মতামতকে বোঝায়। জাতীয় সমস্যাবলির ওপর রাষ্ট্রের বিভিন্ন জনসমষ্টি বিভিন্ন মত পোষণ করতে পারে। কিন্তু সেটি জনমত বলে বিবেচিত হয় তখনই যখন তা হয় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ন্যায়সঙ্গত। জনমত সচেতন ও যুক্তিভিত্তিক। জনমত শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য বিষয়েও গঠিত হতে পারে। উদ্দীপকে এ জনমতের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'G' রাষ্ট্রে ইভটিজিং, নারী নির্যাতন এবং মাদকের ব্যবহার চরম আকার ধারণ করে। সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করে তোলে। জনগণ বিভিন্নভাবে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। অর্থাৎ জনগণ ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের মতামত প্রকাশ করে যাকে জনমত বলে অভিহিত করা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জনমত বিষয়ের ধারণাই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্ধতি অর্থাৎ জনমত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক— উক্তিটি যথার্থ।
সুশাসনের সাথে জনমতের সুসম্পর্ক রয়েছে। কেননা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক ধারায়, আর গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকে জনমতের ভিত্তিতে। সুশাসন বলতে দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। যে সরকারব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সেখানে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়। যেহেতু জনমত হলো সচেতন জনগণের প্রভাবশালী মতামত, সেহেতু সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনমত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। জনমত সুশাসনের পক্ষে সংগঠিত হয়। আবার সুশাসনের পথে যা অন্তরায়, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় । তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমত সব সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশেষ করে সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে জনগণের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংঘবদ্ধ হওয়ার এবং সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা স্বীকৃত বিধায় জনমত বিকাশের সুযোগ রয়েছে। সুশাসনের একটি অন্যতম শর্ত হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। মতামত প্রকাশের এরূপ সুযোগ সুশাসন প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাথে সুশাসন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, সরকারের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, উন্নয়নমুখী প্রশাসনের জন্য জনমত যত বেশি প্রবল হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ তত বেশি সহজতর, সচেষ্ট ও তৎপর হবে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনমতের ভূমিকা অপরিসীম। উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, সুশাসন ও জনমত খুবই নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। জনমত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।