“গাছের ফুলে সুবাস ছড়ায়, মুগ্ধ করা ঘ্রাণে
গাছের ফলই খেয়া সবার শক্তি আসে প্রাণে
গাছের ওই না অক্সিজেনে সকল প্রাণী বাঁচে।”
খলিফা মামুনের পূর্ণ নাম- আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুন।
বন্দি আলী ইবনে আব্বাসের কাছে তার পরিবারের কাছে বন্দি হওয়ার খবর পৌঁছে দেওয়ার প্রার্থনা করেছিল।
আলী ইবনে আব্বাসকে তার দুঃসময়ে যে ব্যক্তি আশ্রয় দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন, দুষ্ট প্রকৃতির লোকের কূটচক্রে তিনিই আবার খলিফা মামুনের রোষে পড়ে আলী ইবনে আব্বাসের হেফাজতে ছিলেন। দুঃসময়ের আশ্রয়দাতা এই বন্দির পরিবারের কেউ তার এই দুর্দশার কথা জানেন না। তাই বন্দি আলী ইবনে আব্বাসের কাছে প্রার্থনা করেছেন তার বন্দিত্বের খবর যেন তিনি যেকোনো উপায়ে তার পরিবারের কাছে পৌছে দেন, যাতে তার পরিবার তার বন্দিত্বের খবর জানতে পারেন।
উদ্দীপকের গাছের পরার্থপর বৈশিষ্ট্যের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের প্রতি-উপকারের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'প্রত্যুপকার' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য- উপকারীর প্রতি-উপকারের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আলী ইবনে আব্বাস তার দুঃসময়ের আশ্রয়দাতা প্রাণরক্ষাকারীর সংকটময় মুহূর্তে নিজের প্রাণ সংশয় নিয়েও প্রতি-উপকার করতে কুণ্ঠিত হননি।
উদ্দীপকে গাছের অন্যের কল্যাণে আত্মনিবেদনের দিকটি ফুটে উঠেছে। বৃক্ষ নানাভাবে অন্যের উপকার করে। গাছের ফুলের সুবাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী ও কীটপতঙ্গকে বিমোহিত করে। এর ফলে শরীরে শক্তি জোগায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাণীর বেঁচে থাকার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান অক্সিজেনের উৎস বৃক্ষ। বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পে প্রতি-উপকারের দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উপকারীর প্রতি-উপকারের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকের মূলভাব 'প্রত্যুপকার' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেনি।
'প্রত্যুপকার' গল্পে দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে-একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। আলী ইবনে আব্বাসের দুঃসময়ে যে ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিয়ে তার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন, তার দুঃসময়ে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনিও উপকারের প্রতিদান দিয়েছেন।
উদ্দীপকে গাছের নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বৃক্ষের সবকিছুই অন্যের কল্যাণে নিবেদিত। বৃক্ষের ফুল অন্যকে মোহিত করে, ফল অন্যের শক্তি জোগায়, অক্সিজেন অন্যের প্রাণ রক্ষার সহায়ক। বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের নিঃস্বার্থ উপকারের দিকটিকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে বৃক্ষের নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি প্রকাশিত হলেও তার প্রতি-উপকারের দিকটি অনুপস্থিত। অন্যদিকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- উপকারীর প্রতি সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকার। আলী ইবনে আব্বাস তার উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিতেও কুণ্ঠিত হননি। খলিফার মহত্ত্বও এ রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সমগ্র মূলভাব প্রকাশিত হয়নি।
