| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গাহি তাহাদের গান-ধরণীর…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৬ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

গাহি তাহাদের গান-
ধরণীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে-ফলে!
বন্য-শ্বাপদ-সঙ্কুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হলো সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
কবির পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।
"ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়" বলতে পরিবারকে ভালোবেসে পারিবারিক গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলে মাতৃসম স্বদেশের ওপর যে নির্মমতা নেমে আসে সেই বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
মা ও মাতৃভূমি এক সূত্রে গাঁথা। মাকে ভালোবেসে পরিবারের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলে দেশরক্ষা হয় না। দেশকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চাইলে প্রিয়জনের প্রতি স্নেহ-মায়া, ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন করে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। তা না হলে দেশমাতাকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা যায় না। সে মৃত্যুপথের যাত্রী হয়ে যায়। আলোচ্য উক্তিতে এই কথাটি বোঝানো হয়েছে।
ভাবগত দিক থেকে উদ্দীপকের কবির বন্দনাগীতির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবির বিবৃতির পার্থক্য রয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। কবির বর্ণিত এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস। বাংলার ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ পূর্বপুরুষেরা যুগে যুগে সংগ্রাম করে এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তবে এই পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ, ত্যাগের।
উদ্দীপকে কবি শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন। যারা অকাতরে পরিশ্রম করে ধরণিকে সাজিয়ে তোলেন তাদের বন্দনা করেছেন। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ জরাজীর্ণ পৃথিবী সুন্দর হয়ে উঠেছে তাদের প্রশংসা করেছেন। উদ্দীপকে কেবল শ্রমজীবী মানুষের অবদান স্বীকার করে তাদের জয়গান বন্দনা করা হয়েছে। কিন্তু 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি স্বাধীনতা অর্জনের পশ্চাতে পূর্বপুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকে বিজয়ের ধ্বনি অনুরণিত হলেও কবিতায় প্রকাশিত হয়ে যন্ত্রণার সুর। সুতরাং বলা যায়, ভাবগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্দনাগীতির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার কবির বিবৃতির ভাবগত পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপকের "যাদের শাসনে হলো সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা"
এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় "তার করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল” চরণদ্বয়ে কৃষিজীবী মানুষের অবদানের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে তারা এখনো অবহেলিত। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। কবিতাটি আমাদের শৌর্যময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমানে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। যুগে যুগে বিভিন্ন বিদেশি শ্রেণির অত্যাচারে জর্জরিত ছিল আমাদের পূর্বপুরুষগণ। তারপরও তারা সংগ্রাম চালিয়ে - আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। প্রশ্নোল্লিখিত চরণটি দ্বারা মূলত কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থার কথা স্মরণ করা হয়েছে, যা আমাদের, শিকড় ও শৌর্যকে তুলে ধরে।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি 'কৃষক শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের বন্দনা করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমে ধরিত্রী শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়। প্রকৃতির রুক্ষতা, ভয়াবহতাকে জয় কর তারা ধরণিকে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ করে তোলে। কবি এসব মানুষের প্রতি সংহতি এবং তাদের কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটি এবং - উদ্দীপকের কবিতাংশ অনুযায়ী মূলত কৃষিজীবী মানুষের কথাই বর্ণিত * হয়েছে। তারা একটি দেশের অন্নদাতা হিসেবে কাজ করে গেলেও বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে তারা এখনো অবহেলিত। জলবায়ুর পরিবর্তনগত সমস্যা, ন্যায্য মূল্যের অভাব, প্রযুক্তিগত সমস্যা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। তাছাড়াও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। ফলে সামাজিকভাবেও তারা হেয়প্রতিপন্ন হয়।