| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অলৌকিক…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অলৌকিক ষাঁড়ের পুকুর। মনোবাসনা পূরণের আশায় টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, দুধসহ বিভিন্ন জিনিস মানত করা হয় এই পুকুরে। পুকুরের খাদেম আমীর আলী মানতের সবকিছু সংগ্রহ করে রাতারাতি প্রচুর সম্পদের মালিক হচ্ছেন। ‘মানতের টাকা ফেলা হয় জলে, ধরা পড়ে খাদেমের জালে।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ধলা মিয়াকে খালেক ব্যাপারী পানিপড়া আনতে পাঠায়।
"ব্যাপারটা ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো।"- এখানে মজিদকে উপেক্ষা করে আওয়ালপুরের পিরের কাছ থেকে পড়াপানি আনার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা নিঃসন্তান। সে সন্তান কামনায় ব্যাকুল। একটি সন্তানের আশায় সে আওয়ালপুরের পিরের কাছ থেকে পানিপড়া পেতে চেয়েছে। স্ত্রীর কথায় খালেক ব্যাপারী ধলা মিয়াকে পানিপড়া আনতে পাঠায়। কিন্তু সে আওয়ালপুরের পিরের কাছে না গিয়ে মজিদের কাছে যায় পানিপড়া আনতে। গ্রামের মোদাচ্ছের পিরের খাদেম মজিদকে না জানিয়ে আওয়ালপুরের পিরের কাছে যাওয়ার বিষয়টি মজিদের কাছে অপমানের মনে হয়েছে। মজিদের রাগ দেখে তার কাছে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো মনে হয়েছে।
উদ্দীপকের ষাঁড়ের পুকুরকে 'লালসালু' উপন্যাসের মোদাচ্ছের পিরের মাজারের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি মহব্বতনগর গ্রাম। গ্রামের একটু বাইরে একটা বৃহৎ বাঁশঝাড়। মোটাসোটা হলদে তার ঝুড়ি বাঁশঝাড়ের কাছে আঁধারে একটা পরিত্যক্ত পুকুরের পাশে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে আছে গাছপালা। তার ওই এক ধার টাল খাওয়া ভাঙ্গা এক প্রাচীন কবর। সেই কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার আখ্যা দিয়ে মজিদ ধর্মব্যাবসা শুরু করে।
উদ্দীপকে এক অলৌকিক ষাঁড়ের পুকুরের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই পুকুরে মানুষ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, দুধসহ বিভিন্ন জিনিস মানত করে নিজেদের মনোবাসনা পূরণের আশায়। অন্যদিকে মানতের সবকিছু সংগ্রহ করে রাতারাতি প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে পুকুরের খাদেম সুচতুর আমীর আলী। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদও মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে কেন্দ্র করে রাতারাতি প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়ে ওঠে। কেননা, গ্রামের মানুষগুলো মাজারে টাকা-পয়সা, পশু-পাখি মানত করতে থাকে। আর মজিদ সেগুলো আত্মসাৎ করে। আর মাজারটি তার শক্তির কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ষাঁড়ের পুকুরকে 'লালসালু' উপন্যাসের মোদাচ্ছের পিরের মাজারের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
পরিণতির দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকের খাদেম এবং 'লালসালু'র মজিদের প্রতিষ্ঠার পেছনে মানুষের অন্ধবিশ্বাসই দায়ী।"-'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে একটি পরিত্যক্ত প্রাচীন কবরকে কেন্দ্র করে ধূর্ত মজিদ ধর্মব্যাবসা গড়ে তোলে। নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার তাগিদে মহব্বতনগর গ্রামে এসে মানুষের অজ্ঞতা ও সরল ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে মজিদ গ্রামের কর্তাব্যক্তি হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, অলৌকিক ষাঁড়ের পুকুরকে আশ্রয় করে ভন্ড আমীর আলী নিজস্ব ব্যাবসা গড়ে তোলে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন চারপাশের মানুষ বিশ্বাস করে মনোবাসনা পূরণের আশায় পুকুরে অনেক কিছু মানত করে। কিন্তু মানুষের টাকা ফেলা হয় জলে আর ধরা পড়ে খাদেমের জালে। অন্যদিকে 'লালসালু' উপন্যাসেও মজিদ একটি পরিত্যক্ত কবরকে মাজার বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়। মানুষ এটাকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার মনে করে যে টাকা-পয়সা, পশু-পাখি দান করে সেগুলো আত্মসাৎ করে মজিদ। এটি মানুষগুলোর অন্ধবিশ্বাসেরই ফল।
উদ্দীপকের মতো 'লালসালু' উপন্যাসে মানুষ বিভিন্ন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে মোদাচ্ছের পিরের মাজারে মানত করে। মানতের সবকিছু সংগ্রহ করে ভণ্ড ও প্রতারক, ধর্মব্যবসায়ী মজিদ রাতারাতি প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষগুলো কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বলেই মজিদ তাদের প্রতারিত করতে পেরেছে। উদ্দীপকের আমীর আলী ও উপন্যাসের মজিদ দুজনেই মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে আশ্রয় করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের খাদেম এবং 'লালসালু'র মজিদের প্রতিষ্ঠার পেছনে মানুষের অন্ধবিশ্বাসই দায়ী।