| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ঘ’ একজন জনপ্রিয়…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ঘ’ একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি অতি সহজেই কথার মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারেন। জনগণ তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। বিশেষ করে তাঁর বক্তব্য ও ব্যক্তিত্ব জনগণকে উজ্জীবিত করে। তিনি দেশকে ও দেশের মানুষকে খুবই ভালোবাসেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
দল ব্যবস্থা প্রধানত তিন প্রকার। যথা- একদলীয় ব্যবস্থা, দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা ও বহুদলীয় ব্যবস্থা।
যখন কোনো দেশে প্রধানত দুটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় এবং অন্য দলগুলোর কার্যকলাপ চোখে পড়ে না তখন তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এরূপ ব্যবস্থায় প্রধান দুটি দলের মধ্যে ক্ষমতার হাত বদল হতে দেখা যায়। ফলে জনগণ খুব সহজেই দটি দলের মতাদর্শ থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারে।
উদ্দীপকে সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কোনো নেতা তার নেতৃত্ব ও কাজের মাধ্যমে জনগণকে ব্যাপকভাবে মুগ্ধ, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হলে তার নেতৃত্বকে সম্মোহনী বা জাদুকরী নেতৃত্ব (Charismatic Leadership) বলা হয়। সম্মোহন শব্দটির অর্থ হচ্ছে আকৃষ্ট বা নিয়ন্ত্রণ করার বিশেষ গুণ। আর এ ধরনের বিশেষ গুণসম্পন্ন নেতা জনগণকে মুগ্ধ করতে পারেন। সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী নেতার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তার প্রতি মুগ্ধ হয় এবং অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। সম্মোহনী নেতার বক্তব্য বা কথা তার অনুসারীদেরকে যেকোনো দুঃসাধ্য কাজ করতেও উদ্বুদ্ধ করে। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) সর্বপ্রথম এ নেতৃত্বের ধারণা প্রদান করেন। মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, আহমদ সুকর্ন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী প্রমুখ নেতার মধ্যে সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণ ছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় নেতা জনাব 'ঘ' জনগণকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারেন। তার ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্য জনগণকে উজ্জীবিত করে। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তার প্রতি মুগ্ধ থাকে এবং অন্ধভাবে বিশ্বাসও করে।
পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, জনাব 'ঘ' সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী।
উদ্দীপকে উল্লেখিত গুণবলি ছাড়াও সুশিক্ষা, ব্যক্তিত্ব, আত্মসংযম, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম, বাগ্মিতা প্রভৃতি হলো নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য গুর্ণাবলি।
একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিই কেবল দক্ষ নেতৃত্ব প্রদান করতে পারেন। এজন্য নেতাকে বেশকিছু গুণের অধিকারী হতে হয়। তন্মধ্যে সুশিক্ষা একটি অপরিহার্য গুণ। কারণ সুশিক্ষিত নেতা তার শিক্ষালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে যেকোনো সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত উপায় নির্ধারণ করতে পারেন। তবে তাকে অবশ্যই সুদৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। কেননা নিজের ব্যক্তিত্ব তথা আচার-আচরণ, সততা, তেজস্বিতা, পাণ্ডিত্য প্রভৃতির বলেই নেতা অন্যের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারেন। এছাড়া নেতাকে হতে হবে সংযমী ও সহনশীল। যাতে ধীরস্থিরভাবে শৃঙ্খলার সহিত যেকোনো কাজ সমাধা করতে পারেন।
নেতৃত্বের একটি আবশ্যকীয় গুণ হলো ন্যায়পরায়ণতা। নেতা যেকোনো কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সকলকে সমান চোখে দেখবেন। তার ন্যায়বোধ হবে প্রশ্নাতীত। একজন নেতাকে অবশ্যই দেশপ্রেমিক হতে হবে। কারণ দেশপ্রেম নেতৃত্বকে অনুপ্রেরণা দেয়, দায়িত্ববান করে ও কল্যাণমুখী কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া উত্তম নেতৃত্বের জন্য বাগ্মিতা একটি অবশ্যম্ভাবী গুণ। বক্তৃতায় ভাষার দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতা থাকলে নেতার পক্ষে জনমত গঠন করা সম্ভব হয়। সর্বোপরি, নেতৃত্বের জন্য দূরদৃষ্টি, অভিজ্ঞতা, উপস্থিত বুদ্ধি প্রভৃতিও কার্যকরী গুণ হিসেবে ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, একজন নেতার মধ্যে নেতৃত্বের সকল গুণ থাকা বাঞ্ছনীয় নয়, তবে উত্তম নেতৃত্বের জন্য নেতাকে বহুমুখী গুণের অধিকারী হতে হয়।