| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঘাসফড়িং-এর বৃক্কাকার বিশেষ…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ঘাসফড়িং-এর বৃক্কাকার বিশেষ অঙ্গ থাকে যা অসংখ্য ষড়ভুজাকার একক নিয়ে গঠিত। এই অঙ্গটি দুই প্রকার প্রতিবিম্ব তৈরি করতে সক্ষম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
শ্বাসরন্ধ্রগুলো দেহমধ্যস্থ অ্যাট্রিয়াম গহ্বরপথে যে স্থিতিস্থাপক, সূক্ষ্মনালিতে উন্মুক্ত হয় তাই ট্রাকিয়া।
ঘাসফড়িং এর পৌষ্টিকনালির মেসেন্টেরনের শেষ অংশে সূক্ষ্ম চুলের মতো হলুদাভ-সবুজ বর্ণের গঠনগুলোকে মালপিজিয়ান নালিকা বলে। মালপিজিয়ান নালিকা ঘাসফড়িং এর প্রধান রেচন অঙ্গ। মধ্য ও পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালির সংযোগস্থলে মালপিজিয়ান নালিকা অবস্থান করে। নালিকাগুলোর মুক্ত প্রান্ত বন্ধ, অপর প্রান্ত পৌষ্টিকনালির গহ্বরে উন্মুক্ত। Marcello Malpighi নামক একজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৬৬৯ সালে এ নালিকা আবিষ্কার করেন সেজন্য তাঁর নামানুসারে এই নালিকার নামকরণ করা হয় মালপিজিয়ান নালিকা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ষড়ভুজাকার এককটি হলো ঘাসফড়িং-এর দর্শন ইন্দ্রিয় পুঞ্জাক্ষির ক্ষুদ্রতম একক ওমাটিডিয়াম। নিচে ওমাটিডিয়ামের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকের শেষ উক্তিতে ঘাসফড়িং এর দর্শন কৌশলের কথা বলা হয়েছে। ঘাসফড়িং-এর দর্শন অঙ্গটি দিনের উজ্জ্বল আলো ও দিনের শেষে মৃদু আলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে এদের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর করে। মৃদু আলোয় সুপার পজিশন এবং উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। নিচে প্রক্রিয়া দুটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব: মৃদু আলোয় রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা সংকুচিত হয়ে কর্নিয়ার দিকে ঘনীভূত হয় এবং ক্রিস্টালাইন কোণের অধিকাংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। উলম্ব আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়ার ভেতর প্রবেশ করে তার র্যাবডোমে পৌছালেও তির্যক আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের ক্রিস্টালাইন কোণের অনাবৃত অংশের মধ্য দিয়ে পাশের ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে পৌছায়। অর্থাৎ একটি ওমাটিডিয়াম তার নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আগত আলোক রশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া থেকে আগত রশ্মিও পেয়ে থাকে। পুঞ্জাক্ষির উপর কোনো বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্বগুলো একে অপরের উপর পড়ায় সম্পূর্ণ বস্তুটির অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
২. অ্যাপজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব: উজ্জ্বল আলোয় প্রতিটিওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। উজ্জ্বল আলোতে রেটিনাল সিথের কোষের রঞ্জকপদার্থ ক্রিস্টালাইন কোণের নিচের, দিকে এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যাতে তার চারদিকে একটি কালো পর্দার সৃষ্টি হয়। ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কেবলমাত্র নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আগত লম্বভাবে প্রতিফলিত রশ্মিই গ্রহণ 'করতে পারে। তির্যকভাবে আগত পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের আলোকরশ্মি আইরিসের রঞ্জক পদার্থে শোষিত হয়। এ অবস্থায় একটি ওমাটিডিয়াম দিয়ে গঠিত প্রতিবিম্ব অনেকটা মোজাইক করা মেঝের পাথরের মতো মনে হয় বলে একে মোজাইক প্রতিবিম্ব বলা হয়।
সুতরাং আলোর তারতম্যের ভিত্তিতে ঘাসফড়িং ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব গঠন করে।