| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঘাসফড়িংয়ের দেহে অবস্থিত…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ঘাসফড়িংয়ের দেহে অবস্থিত বিশেষ অঙ্গ শ্বসন কার্য সম্পাদন করে, যা রুই মাছের শ্বসন অঙ্গ থেকে আলাদা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীরে অবস্থিত অসংখ্য ছোট ছিদ্রসমূহই হলো অস্টিয়া।
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রকোষ্ঠসমূহকে সাইনাস বলে। ঘাসফড়িংয়ের হিমোসিল দুটি অনুপ্রস্থ পর্দা দিয়ে তিনটি সাইনাসে বিভক্ত, যথা- পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস, পেরিভিসেরাল সাইনাস এবং পেরিনিউরাল সাইনাস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ শ্বসন অঙ্গটি হলো ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্র। শ্বাসরন্দ্র, ট্রাকিয়া, ট্রাকিওল ও বায়ুথলির সমন্বয়ে ট্রাকিয়ালতন্ত্র গঠিত হয়। নিচে ট্রাকিয়ালতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
ঘাসফড়িংয়ের দেহে দুটি বক্ষীয় ও আটটি উদরীয় খন্ডকের প্রতি পার্শ্বে একজোড়া করে মোট দশ জোড়া শ্বাসরন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি শ্বাসরন্দ্রে বিশেষ ধরনের পেশি নিয়ন্ত্রিত কপাটিকা বায়ুর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি শ্বাসরন্দ্র অ্যাট্রিয়াম নামক একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে উন্মুক্ত হয়। এখান থেকেই উৎপন্ন হয় সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা যুক্ত ও স্থিতিস্থাপক ট্রাকিয়া বা বায়ুনালি, যা ঘাসফড়িংয়ের সারাদেহে জালিকাকারে বিস্তৃত থাকে। ট্রাকিয়ার সূক্ষ্মতম শাখা যা সরাসরি দেহকোষের সাথে যুক্ত হয় তা হলো ট্রাকিওল। এগুলো এককোষী নালিকা। এদের প্রাচীর ইন্টিমা ও টিনিডিয়াবিহীন। কিন্তু এগুলোর অভ্যন্তর টিস্যুরসে পূর্ণ থাকে। এই ট্রাকিওল রস গ্যাসীয় আদান প্রদানে সহায়তা করে। ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়া সুষম প্রাচীরযুক্ত থলের ন্যায় বায়ুথলিতে সম্প্রসারিত হয়। এসব থলিতে বাতাস জমা থাকে এবং শ্বসনের সময় বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী দুইটি হলো ঘাসফড়িং ও রুই মাছ। এর মধ্যে ঘাসফড়িং ট্রাকিয়ালতন্ত্র এবং রুই মাছ ফুলকার মাধ্যমে শ্বসনের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায়। নিচে প্রাণী দুটির শ্বসন অঙ্গের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ ফুলকা। এদের গলবিলের দুপার্শ্বে অবস্থিত দুটি ফুলকা প্রকোষ্ঠের প্রতিটিতে চারটি করে মোট চার জোড়া ফুলকা বিদ্যমান। প্রতিটি ফুলকা প্রকোষ্ঠ কানকুয়া নামক অস্থিপাত দ্বারা আবৃত থাকে। গলবিলের পার্শ্বপ্রাচীরে পাঁচ জোড়া ফুলকাছিদ্র থাকে। এ ছিদ্রগুলো দিয়ে গলবিল পাশের ফুলকা প্রকোষ্ঠের সাথে যুক্ত থাকে। অপরদিকে ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্রে দশ জোড়া ফুলকা ছিদ্র থাকে যা দেহের দুই পাশে উন্মুক্ত হয় এবং কপাটিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। রুইমাছের ফুলকা ফিলামেন্ট এ যে প্লেট থাকে তা এপিথেলিয়ামে আবৃত এবং এর ভেতর রক্তনালিকার কৈশিক জালিকা বিস্তৃত থাকে। অন্যদিকে, ট্রাকিয়ালতন্ত্রের ট্রাকিওল নালিসমূহ দেহকোষের সান্নিধ্যে আসে এবং গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, যেখানে রুই মাছে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে রক্তনালির মাধ্যমে। রুই মাছের বায়ুথলি বা পটকা পৌষ্টিকনালির পৃষ্ঠীয় প্রাচীর থেকে উৎপত্তি লাভ করে এবং পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাস শ্বসন কাজে ব্যবহৃত হয়। অপরপক্ষে ঘাসফড়িংয়ের বায়ুথলি ট্রাকিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত যা বাতাস জমা রাখে এবং শ্বসনের সময় বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।