| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (6 days ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঘটনা-১: ডেঙ্গু জ্বর…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৬ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

ঘটনা-১: ডেঙ্গু জ্বর → পরীক্ষা-নিরীক্ষা → এডিস মশা
ঘটনা-২: দেশে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে দাদি বললেন, দেশে খারাপ • আত্মার আগমন ঘটেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি।
একটির সাথে অন্যটির সাদৃশ্য না থাকার কারণে চেতনার মৌলিক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। যেমন- বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি মৌলিক সংবেদনগুলোর একটির সাথে অপরটির কোনো সাদৃশ্য নেই। বর্ণের সাথে গন্ধের কোনো সাদৃশ্য নেই। বর্ণের নিয়মকে গন্ধের নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা যায় না। কাজেই চেতনার মৌলিক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করা হলো-
১. পরম নিয়ম বা মৌলিক নিয়মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। মৌলিক নিয়ম হলো সর্বোচ্চ নিয়ম। এ নিয়মের চেয়ে উচ্চতর কোনো নিয়ম নেই বিধায় পরম নিয়মকে অন্যকোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। তাই পরম নিয়মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
২. চেতনার মৌলিক অবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। চেতনার মৌলিক অবস্থার প্রকৃতি এমন যে, এসব চেতনাকে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা যায় না। তাই চেতনার মৌলিক অবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
৩. বিভিন্ন প্রকার মৌলিক মানসিক অনুভূতির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। কেননা এসব মানসিক অনুভূতি একক ও অনন্য। তাই এদের একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা যায় না। এজন্য মৌলিক মানসিক অনুভূতির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
৪. জড় পদার্থের মুখ্য গুণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। জড় পদার্থের মুখ্য গুণ হলো আকার, আকৃতি, বিস্তৃতি, গতি ইত্যাদি। এসব গুণ পদার্থের নিজস্ব গুণ বিধায় এদের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
৫. স্রষ্টা, আত্মা, অমরত্ব ইত্যাদির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। কেননা এসব বিষয়কে অনুরূপ কোনো বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। তাই এসব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, কোনো বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু এমন অনেক বিষয় আছে যেসব ক্ষেত্রে ঐ নিয়মগুলো অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। তাই যেসব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নিয়ম প্রয়োগ করা যায় না, যেসব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
ঘটনা-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং ঘটনা-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি লৌকিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যখন প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। অন্যদিকে, যখন অতিপ্রাকৃতিক ও কাল্পনিক কারণ উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক উল্লেখ করা হয় বিধায় এখানে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হয়। কেননা এখানে প্রথমে প্রকল্প প্রণয়ন করে তারপর কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না। তাই এখানে প্রকল্প প্রণয়নের প্রয়োজন পড়ে না।-
৩. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযুক্তিকরণ আছে। কেননা এখানে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নিয়মকে অন্যান্য নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় সংযুক্তিকরণ নেই। কেননা এখানে সমজাতীয় ঘটনাকে অন্য ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয় না।
৪. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক। কেননা এখানে ঘটনার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যা অপ্রাসঙ্গিক। কেননা এখানে ঘটনার সাথে ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক হয় না।
৫. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধরন একই থাকে। কেননা এ প্রকার ব্যাখ্যায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বিধায় এটি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে একই থাকে। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যার ধরন ভিন্ন হয়। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যানধারণা থেকে ব্যাখ্যা করে বলে লৌকিক ব্যাখ্যা স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয় প্রকার ব্যাখ্যার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।