| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঘটনা-১: জনাব C…’ ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

ঘটনা-১: জনাব C অবহেলিত মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য “মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন” গঠন করেন।
ঘটনা-২: অপরপক্ষে জনাব D কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। শ্রমিকদের নামানুসারে একটি দলও তিনি গঠন করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে তার যথেষ্ট অবদান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্য পদ লাভ করে।
কোরাম বলতে কোনো সভার কাজ পরিচালনার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যাকে বোঝায়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের বৈঠক পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়। যদি ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকেন, তবে স্পিকার অধিবেশন স্থগিত রাখতে পারেন এবং পাঁচ মিনিটকাল ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন। ঘণ্টাধ্বনি বাজার পরও যদি কোরাম পূর্ণ না হয়, তবে স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন।
ঘটনা-২ এ বর্ণিত জনাব 'D'-কে অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত জননেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাথে তুলনা করা যায়।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন কৃষক ও মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি কৃষকদের মহাজনি ঋণের হাত থেকে বাঁচাতে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করেন এবং প্রজাস্বত্ব আইন পাস করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং শোষিত শ্রেণির মুক্তি নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের জনাব 'D' যেমন কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য দল গঠন করেছেন, তেমনি ফজলুল হক 'কৃষক-প্রজা পার্টি' গঠন করেছিলেন। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ, লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ এবং ঢাকায় ফজলুল হক হল প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রচেষ্টায় অনেক স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বাংলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকের জনাব 'D'-এর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃষক-শ্রমিক প্রীতির সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কর্মকাণ্ডের পূর্ণ সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
ঘটনা-১ এ বর্ণিত জনাব 'C' নবাব স্যার সলিমুল্লাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন কাজ করে গেছেন। তৎকালীন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের জনাব 'C' যেমন মুসলমানদের স্বার্থে 'মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন' গঠন করেন, তেমনি নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে এবং মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে তার উদ্যোগেই ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকের ঘটনাটি মূলত নবাব সলিমুল্লাহর এই রাজনৈতিক উদ্যোগকেই নির্দেশ করে।
নবাব সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়েছিল, যা পূর্ব বাংলার মুসলমানদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। যদিও ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়, তবুও তার প্রচেষ্টায় ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি আদায় সম্ভব হয়েছিল। মুসলিম লীগ গঠনের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায়, তৎকালীন মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এবং তাদের অধিকার আদায়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অপরিসীম ও অনস্বীকার্য।