| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। এই খেলায় সে অতুলনীয় আনন্দ পায়। খেলাধুলা করায় তার মন ও শরীর প্রফুল্ল থাকে। এর ফলে লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগ দিতে পারে। অল্প সময়ে পড়া আয়ত্ত করতে পারে।
ঘটনা-২: বাল্যকাল হতে আমাদের শিক্ষার সাথে আনন্দ নেই। কেবল যা কিছু নিতান্ত আবশ্যক, তাই কণ্ঠস্থ করতেছি। প্রকৃতপক্ষে এটি করে কোনোমতে কাজ চলে মাত্র, কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
মর্ত্যবাসীর পক্ষে রসাতলে গমন করাটা নিন্দনীয়।
বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনতুন সম্পর্ক পাতানোই কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম হওয়ায় লেখকেরা যথার্থ সামাজিক জীব।
লেখকদের কোনো কথাই গোপন থাকে না। তাদের একান্ত গোপন কথাটিও গীতিকবিতায় স্থান পায়। বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনতুন যোগসূত্র স্থাপন করাই লেখকদের কাজ। এজন্য তারা দশের কাছে হাততালি প্রত্যাশা করেন, না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন। তাই 'সাহিত্যের খেলা'র প্রবন্ধে লেখকদের যথাযথ সামাজিক জীব বলা হয়েছে।
ঘটনা-১-এর সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দপ্রাপ্তির বিষযটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের সঙ্গে খেলাধুলার তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় যেমন লোকে নিছক আনন্দ ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করে না, তেমনই সাহিত্যেরও প্রধান উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ দান করা।
উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ নাবিলের খেলাধুলার প্রতি প্রবল ঝোঁক। ক্রিকেট খেলে সে প্রচুর আনন্দ পায়, যা তাকে নিরবচ্ছিন্ন পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক উদ্দেশ্যগত দিক থেকে সাহিত্যের সাথে খেলাধুলার তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় লোকে আনন্দ ছাড়া অন্যকিছু প্রত্যাশা করে না। খেলার মাঝে আনন্দপ্রাপ্তির দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ খেলার মধ্যে আনন্দপ্রাপ্তি ও ঘটনা-২ এ পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আনন্দহীনতার যে দিকগুলো 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মতো বর্ণিত হয়েছে তাতে "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়কে নির্দেশ করে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। অন্যদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করাও নয়। তাই সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে-১ এর নাবিল ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়। অন্যদিকে ঘটনা-২-এ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নিরানন্দের দিকটি ফুটে ওঠে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক উদ্দেশ্যগত দিক থেকে খেলার সাথে সাহিত্যের তুলনা করেছেন। আর সাহিত্যিককে তিনি স্কুল মাস্টারির ভার দেননি।
উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয় 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিকের কর্তব্যের মতো মূল বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের মতে, খেলাধুলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দ দান। লোকে যখন খেলা করে তখন একমাত্র আনন্দ ছাড়া আর কিছুই চায় না। তাই সাহিত্যের সঙ্গে খেলার তুলনা চলে। এই একই কারণে সাহিত্যিককে স্কুলমাস্টারির ভার দেওয়া যায় না। কারণ স্কুল মাস্টাররা সাহিত্যের আনন্দের ব্যাপারে উদাসীন। তারা কঠিন উপস্থাপনার মাধ্যমে সাহিত্যকে জটিল করে ফেলে। ফলে সাহিত্যের আনন্দ থেকে ছাত্ররা বঞ্চিত হয়ে গলাধঃকরণ শুরু করে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়কে ধারণ করে" মন্তব্যটি যথার্থ।