| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গণি মিয়া তার…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

গণি মিয়া তার আলু ক্ষেতে গাছের পাতায় মখমলের ন্যায় আস্তরণ ও দূর্গন্ধ লক্ষ করেন এবং ধান ক্ষেতের পাতায় ভেজা, লম্বা দাগ ও আঁঠালো রস জমতে দেখেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
যে প্রতীকের সাহায্যে একটি পুষ্পের মাতৃঅক্ষের সাপেক্ষে এর বিভিন্ন স্তবকের পুষ্পপত্রগুলোর অবস্থান, সংখ্যা, সমসংযোগ, অসমসংযোগ, পুষ্পপত্রবিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখানো হয় তাই হলো পুষ্প প্রতীক।
সামুদ্রিক কোরালের ন্যায় গঠনবিশিষ্ট Cycas -এর মূলকে বলা হয় কোরালয়েড মূল। Cycas-এর প্রধান মূল নষ্ট হয়ে দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট অস্থানিক মূল তৈরি হয়। পরে যা ব্যাকটেরিয়া এবং Nostoc ও Anabaena জাতীয় সায়ানোব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে এ মূলগুলো সরু না হয়ে সামুদ্রিক কোরালের মতো আকৃতি ধারণ করে। Cycas-এর এ ধরনের মূলকে তখন বলা হয় কোরালয়েড মূল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রোগটি হলো আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ। এ রোগের কারণ হলো আলু গাছে Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের আক্রমণ। এ রোগের প্রতিকারের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
i. আলুর চাষের সময় রোগ মুক্ত আলু বীজ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। রোগ প্রবণ এলাকা থেকে বীজ আলু সংগ্রহ করা ঠিক নয়।
ii. বীজ বপনের আগে ১% বোঁদো মিশ্রণ বা অন্য কোনো ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে ব্যবহার করা দরকার।
iii. গাছের দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চির, বড় হলে বা বয়স এক মাস হলে ১৫ দিন পর পর ছত্রাক রোধক ওষুধ স্প্রে করা প্রয়োজন যাতে রোগ সংক্রমণ হতে না পারে।
iv. জমিতে অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সার প্রয়োগে রোগ বিস্তার দ্রুততর হয়। এজন্য অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সার ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
v. বর্তমানে বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধী জাত আবিষ্কৃত হয়েছে। সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এসব রোগ প্রতিরোধী জাত আবাদ করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি হলো ধানের ব্লাইট রোগ। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই রোগকে সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ বলে মনে করা হয়। রোগের প্রকোপ অনুযায়ী এই রোগে ধানের ফলন শতকরা ৬০ ভাগ কম হয়। পৃথিবীর ৬০% মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। তাই ধানের এই রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিলে খাদ্য স্বল্পতার সৃষ্টি হবে। অধিকাংশ মানুষ না খেয়ে বা একবেলা খেয়ে দিন কাটাবে। এতে তারা অপুষ্টির শিকার হবে বলে তাদের ওজনও হ্রাস পাবে। আবার ধানের পরিমাণ হ্রাস পেলে স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য ফসলের উপর চাপ পড়বে, বাজারে ফসলের দাম বৃদ্ধি পাবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরমুখী হবে। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশে যেমন দূষণ ঘটবে তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে অনেকে অপরাধ সংগঠনে সক্রিয় হয়ে উঠবে। তাই বলা যায়, ধানের ব্লাইট রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে জনজীবনের বিভিন্নক্ষেত্রে বিপর্যয় আসতে পারে।