| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গতরাত থেকে তানিয়ার…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

গতরাত থেকে তানিয়ার বমিসহ প্রবল ডায়রিয়া, এতে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় এবং রক্তচাপ কমে যায়। আবার তার বান্ধবী রিতা কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত, সাথে শরীরে ব্যথা ও র্যাশ দেখা গিয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
ভাইরাসের ক্যাপসিডের প্রতিটি প্রোটিন অণুই হলো ক্যাপসোমিয়ার।
ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র সম্পন্ন করতে যৌন ও অযৌন চক্র ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার এ চক্র দুটি একটি পোষকদেহে সম্পন্ন হয় না। পরজীবীটি মশকীর দেহে যৌন জনন এবং মানুষের দেহে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। সুতরাং পরজীবীটির পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্যই দুটি পোষক প্রয়োজন।
উদ্দীপকে তানিয়ার যে রোগটি উল্লিখিত হয়েছে তা হলো কলেরা। আর এই রোগের জন্য দায়ী জীবাণু হলো ব্যাকটেরিয়া। নিম্নে ব্যাকটেরিয়ার আদর্শ গঠনের বর্ণনা দেওয়া হলো-
প্রতিটি ব্যাকটেরিয়াম কোষকে ঘিরে একটি জড় কোষ প্রাচীর থাকে। এর প্রধান উপাদান পেপটিডোগ্লাইকান। বহু ব্যাকটেরিয়াতে কোষ প্রাচীরকে ঘিরে জটিল কর্বোহাইড্রেট দিয়ে বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি পুরু স্তর থাকে, যাকে ক্যাপসিউল বলে। অনেক ব্যাকটেরিয়াতে একটি ফ্ল্যাজেলাম বা একাধিক ফ্ল্যাজেলা থাকে। ফ্ল্যাজেলা ছাড়াও কোনো ব্যাকটেরিয়াতে খাটো ও শক্ত পিলি থাকে। সাইটোপ্লাজমকে বেষ্টন করে সজীব প্লাজমামেমব্রেন অবস্থিত। ব্যাকটেরিয়া কোষের প্লাজমামেমব্রেন কখনো কখনো ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে মেসোজোম গঠন করে। সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম অবস্থিত। সাইটোপ্লাজম বর্ণহীন, স্বচ্ছ। এতে বিদ্যমান থাকে ছোট ছোট কোষ গহ্বর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত উল্লেখযোগ্য অঙ্গাণু হলো মুক্ত রাইবোজোম এবং পলিরাইবোজোম। কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াসের পরিবর্তে কেবল মাত্র একটি ক্রোমোসোম থাকে, যা সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত। বহু ব্যাকটেরিয়াতে বৃহৎ ক্রোমোসোম ছাড়াও একটি ক্ষুদ্রাকার ও বৃত্তাকার ক্রোমোসোম থাকে, যা প্লাসমিড নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রিতার রোগের কারণ ও প্রতিকার, তানিয়ার রোগ থেকে ভিন্ন। কারণ-
রিতার রোগের লক্ষণ থেকে বোঝা যায়, তার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে যা ভাইরাসজনিত। কারণ কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বর থাকা, সাথে শরীরে ব্যথা ও র্যাশ দেখা দেওয়া ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। আর এ রোগ থেকে প্রতিকারের জন্য প্রথমত অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ পরিত্যাগ করতে হবে। ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ দিতে হয়। রক্তের সাম্যতা রক্ষার জন্য প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন এর প্রয়োজন পড়ে। রোগীকে প্রচুর পানি, ফলের রস ও তরল খাবার দিতে হয়। মাথায় পানি ঢালা, গায়ের ঘাম মুছে দেওয়া, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দেয়া রোগীর জন্য ফলদায়ক হয়।
অপরদিকে তানিয়ার রোগটি হলো কলেরা এবং তা ব্যাকটেরিয়াজনিত। কারণ বমিসহ প্রবল ডায়রিয়া, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, রক্ত কমে যাওয়া এগুলো সবই কলেরা রোগের লক্ষণ। আর এ রোগের প্রতিকার হলো- কলেরা রোগীর দেহ থেকে অতিমাত্রায় লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। তাই পানি ও লবণের সমন্বয়ের জন্য শিরায় স্যালাইন দেওয়া হয়। সাথে ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন দিতে হয়। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিতে হয়। মোট কথা রোগীর দেহে যাতে পানিশূন্যতা দেখা না দিতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হয়।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, রিতার রোগের কারণ ও প্রতিকার, তানিয়ার রোগ থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন।