| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গৌরিপুর গ্রামের সুশিক্ষিত…’ ঢাকা কলেজ ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

গৌরিপুর গ্রামের সুশিক্ষিত ছেলে আরিফ হোসেন। এলাকার উন্নয়ন, বিশেষ করে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষর করে তোলার লক্ষ্যে সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে কিন্তু এ মহৎ কাজে সে তীব্র বাধা সম্মুখীন হয়। নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বজায় রাখার জন্য মাতব্বর আনসার আলী ও তার লোকেরা আরিফকে অপমানিত করে গ্রাম ছাড়া করে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তানু বিবি।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মাতৃহৃদয় বিচলিত হয়ে ওঠার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা তাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে। কিন্তু মজিদ তার অল্পবয়সি দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার ওপর নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে । এজন্য সে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে জমিলাকে মাজারে বেঁধে রেখে আসে। মজিদ যখন জমিলাকে ঝড়বৃষ্টির রাতে একা মাজারে বেঁধে রেখে আসে, তখন রহিমা জমিলার কথা ভেবে বিচলিত হয়ে ওঠে। জমিলার জন্য রহিমার মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করে মজিদ তার মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে চায়। তাই সে শিলাবৃষ্টির প্রসঙ্গ তুলে ধানের ক্ষতি হওয়ার কথা বলে । এ পরিস্থিতিতে স্বামীভক্ত রহিমা প্রতিবাদী ভাষায় মজিদকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। রহিমার এই উক্তির দ্বারা তার মাতৃহৃদয়ে কমবয়সি জমিলার জন্য শঙ্কা ও সন্তানবাৎসল্যসুলভ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের আরিফ 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে ।
'লালসালু' উপন্যাস একটি সামাজিক সমস্যাবিষয়ক উপন্যাস। যেখানে মহব্বতনগর নামক একটা গ্রামের মানুষের মধ্যে থাকা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদি দেখা যায়। মহব্বতনগর গ্রামের এক শিক্ষিত যুবক আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায় কিন্তু মজিদ তাকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়। মজিদের ধর্মব্যাবসার প্রভাব যেন ক্ষুণ্ণ না হয় তাই সে গ্রামের মানুষকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখতে চায় ।
উদ্দীপকে গৌরিপুর গ্রামের সুশিক্ষিত ছেলে আরিফ হোসেন এলাকার উন্নয়ন, বিশেষ করে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষর করে তোলার লক্ষ্যে সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে কিন্তু এ মহৎ কাজে সে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয় সমাজের প্রভাবশালী লোকেদের কারণে। উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় কারণ সে মহব্বতনগরের মানুষকে নিরক্ষর থেকে স্বাক্ষর করে তুলতে চায় কিন্তু সে উদ্দীপকের আরিফের মতো ষড়যন্ত্রের শিকার হয় যার ফলে তার স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও ভেঙে যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আরিফ 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
গ্রামের অনগ্রসতার ক্ষেত্রে আনসার আলী ও তার অনুসারীদের মতো লোকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'- উক্তিটি যথার্থ। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস হলো গ্রামের শিক্ষিত যুবক যে গ্রামে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং গ্রামের মানুষের মাঝে আলো ছড়িয়ে দিতে চায়৷ কিন্তু মহব্বতনগর গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারী ও ধর্মব্যবসায়ী মজিদ আক্কাসকে নানাভাবে অপমান করে এবং স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়। আক্কাসকে ঠাট্টা করে মজিদ বলে, তোমার দাড়ি কই মিয়া? মজিদ গ্রামের সাধারণ মানুষকে বোঝায় শিক্ষিত হলে তারা ধর্ম কর্ম করবে না, তাই স্কুলের কোনো দরকার নেই। উদ্দীপকে গৌরিপুর গ্রামের সুশিক্ষিত ছেলে আরিফ হোসেন। এলাকার উন্নয়ন, বিশেষ করে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষর করে তোলার লক্ষ্যে সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায় কিন্তু সে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয়। নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বজায় রাখার জন্য মাতব্বর আনসার আলী ও তার লোকেরা আরিফকে অপমানিত করে গ্রাম ছাড়া করে যেটার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসে নিজের প্রভাব এবং ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য মজিদ এবং খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামে আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে না দেওয়ার মিল আছে। কারণ তারা দুজনেই একই চরিত্রের অধিকারী। উভয়ই গ্রামের মানুষকে শোষণ করছে, গ্রামের মানুষ যদি শিক্ষিত হয়ে যায় তাহলে তারা নিজেদের ভালোমন্দ বুঝতে পারবে এবং তাদেরকে শোষণ করে আর নিজের অর্থসম্পদ গড়তে পারবে না। মূলত একারণেই তারা গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি যেটা উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় ‘গ্রামের অনগ্রসতার ক্ষেত্রে আনসার আলী ও তার অনুসারীদের মতো লোকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।