| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গ্রামের স্কুল শিক্ষক…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

গ্রামের স্কুল শিক্ষক বাবা তমিজুদ্দীন তাঁর ছেলে রাসেলকে শহরের বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চ
শিক্ষার জন্য পাঠায়। রাসেল ডাক্তার হয়ে বাবার মুখ উজ্জ্বল করে ফিরে আসে গ্রামে।
তার ইচ্ছা গ্রামের অসহায়, দুস্থ রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবে
এবং তাবিজ-কবজ, ঝাড়-ফুঁক ও পানিপড়া প্রভৃতি অন্ধ বিশ্বাস থেকে গ্রামবাসীদের
মুক্ত করবে। কিন্তু ব্যাপারটা গ্রামের মোড়ল করিম খান মেনে নিতে পারে না। রাসেল
যাতে গ্রামের মানুষদের সচেতন করতে না পারে সেই চেষ্টা করতে থাকে সে, কিন্তু
রাসেল কোনো দিকে কর্ণপাত না করে এগিয়ে যায় নিজের লক্ষ্যের দিকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'তোমার দাড়ি কৈ মিঞা? উক্তিটি মজিদের ।
প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে মজিদের জীবনের অতীত পরি সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ মসজিদে যাওয়ার পথে তার অতীত জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। দশ বা বারো বছর আগে এক নিঃস্তব্ধ শ্রাবণের নুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করেছিল। তখন সে ছিল ভাগ্যদেবী ও সুন্দ একজন মানুষ। কিন্তু আজ সে জোত-জমি, সম্মান-প্রতিপত্তির মালিক বছরগুলো ভালোই কেটেছে তার; হয়তো ভবিষ্যতেও এমনই কাটবে। তাই নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বোঝাতেই মজিদ প্রশ্নোক্ত কথাটি ভেবেছে।
উদ্দীপকের রাসেল চরিত্রটির সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের তুলনীয় চরিত্র হলো আক্কাস আলীর চরিত্র।
'লালসালু' উপন্যাসে মোদাব্বের মিঞার ছেলে আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে নিজে করিমগঞ্জ স্কুলে পড়াশোনা করেছে। তাই সে চায় সকলের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে গ্রামের অশিক্ষিত মানুষকে সচেতন ও শিক্ষিত করে তুলতে। কিন্তু মজিদের বিরোধিতার কারণে আক্কাসের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
উদ্দীপকের রাসেল মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ডাক্তারি পাশ করে গ্রামে ফিরে আসে। তার ইচ্ছে তাবিজ-কবজ, ফুঁক ও পানি পড়া প্রভৃতি অন্ধ বিশ্বাস এবং বিভ্রান্তিকর চিকিৎসা থেকে গ্রামবাসীদের মুক্ত করা এবং গ্রামের অসহায় দুস্থ রোগীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা। কিন্তু গ্রামের মোড়ল রাসেলের এই মহান উদ্দেশ্যে সফল হতে বাধা দিলেও রাসেল তার লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই বলা যায়, নিজ গ্রামের মানুষের জন্য ইতিবাচক চিন্তা করার জন্য রাসেল ও আক্কাস আলী তুলনীয় চরিত্র।
উদ্দীপকে ও 'লালসালু' উপন্যসে পশ্চাদপদ সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে যা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ।
'লালসালু' উপন্যাসের অন্তজ শ্রেণির গ্রামবাসী অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। এখানকার মানুষ ভাগ্য ও অলৌকিকত্ব গভীরভাবে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মজিদ নামক ধর্ম ব্যবসায়ী নিজের স্বার্থসিদ্ধ করে। এসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ দৈবশক্তির লীলা দেখে নিদারুণ ভয় পেয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন নয়তো ভক্তিতে আপ্লুত হয়। অন্ধ বিশ্বাসের কারণে গ্রামবাসী সহজেই মাজার প্রেমী হয়ে ওঠে মাজারকেই তারা তাদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করে।
উদ্দীপকে আমরা যে সমাজব্যবস্থা দেখতে পাই, সেখানকার মানুষ অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারকে আকড়ে বেঁধে থাকে। তারা চিকিৎসার জন্য তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়ার ওপর নির্ভর করে। তাদের জীবনব্যবস্থা অন্ধ ধর্মবিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ।
মহব্বতনগরের লোকজন অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের মধ্য দিয়েই দিন অতিবাহিত করে। গ্রামের সাধারণ জনগণ ধর্মভীরু হওয়ায় ধর্ম ভীরুতার সুযোগ নিয়ে ভণ্ডরা ধর্ম ব্যাবসা শুরু করে। নানাভাবে ভয়-ভীতি জাগিয়ে এই প্রতারকরা নিজের স্বার্থ হাসিল করে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মধ্যে ভণ্ডামি ও প্রতারণার পরিচয় মেলে। মহব্বতনগরের মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে সে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। শুধু তাই না, শিক্ষিত সচেতন মানুষ যাতে তার ব্যবসায় বাধা না সৃষ্টি করতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। উদ্দীপকেও কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস উভয়ই অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনজীবনের আলেখ্য” মন্তব্যটি যৌক্তিক।