| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গ্রীক পুরাণে বর্ণিত…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

গ্রীক পুরাণে বর্ণিত দানবের নামে পরিচিত প্রাণী একটি বিশেষ কোষ দ্বারা চলন, খাদ্যগ্রহণ ও আত্মরক্ষা করে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
রুই মাছের বায়ুথলির উভয় প্রকোষ্ঠের আন্ত:প্রাচীরের এপিথেলিয়ামে একটি করে লাল বর্ণের গ্যাসগ্রন্থি থাকে, এদেরকে রেটিয়া মিরাবিলিয়া বলা হয়।
রুই মাছের ফুলকায় বিদ্যমান রক্ত নালিকার মধ্যে দিয়ে রক্ত সর্বদা পানিস্রোতের বিপরীতে প্রবাহিত হয়, একে প্রতিস্রোত তন্ত্র বলে। এতে রক্ত কর্তৃক সর্বোচ্চ অক্সিজেন গ্রহণ নিশ্চিত হয়। বিপরীতমূখী পানি স্রোতে রক্ত হতে রক্ত হতে অধিক ঘনত্বে আক্সিজেন থাকার কারণে এটি ঘটে। এটি দীর্ঘস্থায়ী ঘনত্ব অক্সিজেন থাকার কারণে এটি ঘটে। এটি দীর্ঘস্থায়ী ঘনত্ব নতিমাত্রা সৃষ্টি হওয়ার কারণে পানির অক্সিজেন খুব সহজেই রক্তে দ্রবীভূত হয়। ফুলকায় বিদ্যমান ল্যামিলাগুলো অক্সিজেন শোষণ তল বৃদ্ধি করে। ফুলকা ছিদ্রের প্রান্তভাগ একে অপরকে অতিক্রম করে। ফলে ফুলকা প্রকোষ্ঠে পানি প্রবাহের গতি মন্থর থাকে যাতে করে গ্যাস বিনিময়কাল দীর্ঘ হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো Cnidaria পর্বভূক্ত দ্বিস্তরী প্রাণী Hydra ৷ Hydra-এর এপিডার্মিসে অবস্থিত বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট কোষ। নিচে নিডোসাইট কোষের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আবরণ: প্রতিটি কোষ দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। স্তর দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম এবং কোষের গোড়ার দিকে একটি নিউক্লিয়াস থাকে৷
২. নেমাটোসিস্ট: নিডোসাইটের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাইটিনের মতো পদার্থে নির্মিত আবরণে আবৃত ও সূত্রকযুক্ত একটি ক্যাপসুলের নাম নেমাটোসিস্ট। আদর্শ নিডোসাইটে ক্যাপসুলটি প্রোটিন ও ফেনল-এর সমন্বয়ে গঠিত বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন এ পূর্ণ থাকে৷ সুত্রকের চওড়া গোড়াটিকে বাট বা শ্যাফট বলে। এতে তিনটি বড় তীক্ষ্ন কাটার মতো বার্ব এবং সর্পিল সারিতে বিন্যস্ত ক্ষুদ্রতর কাটার মতো অসংখ্য বার্বিওল দেখা যায়।
৩. অপারকুলাম: স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্টের সূত্রক ও ক্যাপসুল যে ঢাকনা দিয়ে আবৃত থাকে তার নাম অপারকুলাম। উন্মুক্ত অবস্থায় এটি পাশে সরে যায়।
৪. নিডোসিল: নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তের শক্ত, দৃঢ় সংবেদনশীল কাটাটি নিডোসিল। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। নিডোসিল ট্রিগারের মতো কাজ করে, ফলে অপারকুলাম সরে যায় এবং প্যাচানো সুত্রকটি বাইরে বেরিয়ে আসে।
৫. পেশিতত্তু ও ল্যাসো: কোষের সাইটোপ্লাজম ও নেমাটোসিস্টের প্রাচীরে সঙ্কোচনশীল কিছু পেশিতন্তু থাকে৷ এছাড়াও কোষের নিচের প্রান্তে ল্যাসো নামের প্যাচানো সূত্রক দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা । নিচে হাইড্রার বিভিন্ন কোষ ও অঙ্গ পর্যায়ের কাজের ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো-
কোষভিত্তিক শ্রমবন্টন:
১. পেশি আবরণী কোষ: দেহের সাধারণ আবরণ তৈরি করে এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে চলন, শিকার ধরা ইত্যাদি কাজে অংশ গ্রহণ করে।
২. নিডোব্লাস্ট কোষ: শিকার ধরা, চলন ও আত্মরক্ষার কাজ সম্পাদন করে।
৩. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: মুকুল ও জননাঙ্গ সৃষ্টি এবং দেহের প্রয়োজনে সব ধরনের কোষ সৃষ্টি করে।
৪. সংবেদী ও স্নায়ুকোষ পরিবেশ হতে সংবেদন গ্রহণ এবং উদ্দীপনা দ্বারা প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।
৫. পুষ্টিকোষ: বহিঃকোষীয় এবং অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে।
৬. গ্রন্থিকোষ: পরিপাক এনজাইম এবং আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।
৭. জনন কোষ: জননে অংশ নিয়ে বংশ রক্ষা করে।
কার্যভিত্তিকশ্রমবন্টন:
১. পুষ্টি-কোষ: এগুলো দেহের অন্তঃত্বক গঠন করে এবং পেশীর মতো সঙ্কোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে চলনে সহায়তা করে। এরা মুখছিদ্র খোলা ও বন্ধ করতে স্ফিংটারের মতো কাজ করে।
২. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: এগুলো টটিপোটেন্ট ক্ষমতা সম্পন্ন অর্থাৎ প্রয়োজনে যে কোনো কোষে পরিণত হতে পারে।
৩. গ্রন্থিকোষ: মিউকাস ক্ষরণ করে খাদ্যবস্তু গলাধঃকরণ করে। এনজাইম ক্ষরণ করে খাদ্যবস্তুর বহিঃকোষীয় পরিপাক ঘটায়।
৪. সংবেদী কোষ: সংবেদী কোষ সিলেন্টেরনের অভ্যন্তর হতে খাদ্য ও পানির জৈব-রাসায়নিক উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং স্নায়ুকোষে পৌছে দেয়।
৫. ম্নায়ুকোষ: এরা সংবেদী কোষ হতে উদ্দীপনা গ্রহণ করে প্রতিবেদন তৈরি করে এবং এরা দেহের বিভিন্ন কোষের কাজের মধ্যে সমন্বয় করে।: