❄ গৃহপরিচারিকার কাজ করে রানার মা রানাকে লেখাপড়া করায়। অন্যদিকে রানার পিতা নেশার টাকা জোগাড় করতে সবকিছু করতে প্রস্তুত। রানার মা-ই নিজের উপার্জিত টাকায় তাদের সংসার চালায়। আর রানার বাবা প্রতিদিনের বাজার খরচের টাকা থেকে নিজের নেশার টাকা ছিনিয়ে নিতেও দ্বিধাবোধ করে না।
❄ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শাফীর বাবা রিকশাচালক মতিন অনেক কষ্টে ছেলের চিকিৎসা করায়। মতিনের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। সংসার চালানো ও ছেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে মতিনকে অনেক সময় নিজের রক্তও বিক্রি করতে হয়।
-'উষার পূর্বাভাস' বলতে কবি হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ বুঝিয়েছেন।
"জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অস্তরবির প্রায়”- এখানে 'অস্তরবির প্রায়' কথাটি দ্বারা বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন সূর্যের অস্ত যাওয়া অর্থাৎ নিভে যাওয়ার অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের সমস্ত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি নেই। অথচ বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তায়মান সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের রানার পিতা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার হুমায়ুনের পিতার মধ্যে সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহবাৎসল্যের বৈশিষ্ট্যটি অনুপস্থিত।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বাদশা তার জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন বাঁচান এবং নিজে মৃত্যুকে অকাতরে গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকের রানার পিতা একজন নেশাগ্রস্ত লোক। সন্তানের প্রতি তার ন্যূনতম দায়িত্ববোধ তো নেই-ই বরং স্ত্রী গৃহপরিচানিকার কাজ করে আয় করে আনা টাকা দিয়ে পুত্রের শিক্ষার খরচ মেটাতে গেলে সেখানেও সে হানা দেয়। এর বিপরীত চিত্র ধরা পড়ে 'জীবন বিনিময়' কবিতায়। এই কবিতায় বাদশা বাবর তাঁর ছেলের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে পিতৃস্নেহের অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যান। বাদশা বাবরের এ বৈশিষ্ট্যটি রানার বাবার মাঝে অনুপস্থিত।
উদ্দীপকের শাফীর বাবা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর পুত্রের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় “উদ্দীপকের শাফীর বাবা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর বিশেষ একটি দিক থেকে এক ও অভিন্ন”- এ মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
'জীবন বিনিময়' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য পিতার স্নেহবাৎসল্যর কাছে মৃত্যুর পরাজয়। বাদশা বাবর তার ছেলে হুমায়ুনের প্রাণ বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিয়ে পৃথিবীর বুকে পিতৃস্নেহের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকের শাফীর বাবাও সন্তানের প্রতি সীমাহীন আত্মত্যাগ করেছে। নিজে রিকশাচালক হওয়াতে কখনো কখনো নিজের রক্ত বিক্রি করে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসা করিয়েছে। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা বাবর ছেলেকে দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্ত করতে অপরিসীম আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। নিজের প্রাণদান করতেও কুণ্ঠিত হননি।
প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের শাফীর বাবা ও বাদশা বাবরের মধ্যে মিল পুত্রের প্রতি পিতার স্নেহবাৎসল্যের দিকটি। উদ্দীপকের শাফীর বাবা যেমন সন্তানের চিকিৎসার জন্য রক্ত বিক্রি করতেও কার্পণ্য করেনি, তেমনই বাদশা বাবরও সন্তানের জন্য নিজ প্রাণ দান করতে দ্বিধান্বিত হননি। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের শাফীর বাবা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর বিশেষ একটি দিক থেকে এক ও অভিন্ন"- এ মন্তব্যটি যথার্থ।
