| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘গ্রুপ ‘A’ =…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

গ্রুপ ‘A’ = থ্যালোফাইটিক, সবুজ কিন্তু জননাঙ্গ এককোষী।
গ্রুপ ‘B’ = থ্যালোফাইটিক ও অসবুজ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
ফার্নের কুণ্ডলিত কচি পাতাই হলো ক্রোজিয়ার।
বর্তমানে জীবন্ত কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রাগৈতিহাসিক যুগে বিদ্যমান উদ্ভিদ তথা বর্তমানে জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে এমন উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলে বর্তমানে জীবন্ত উদ্ভিদটিই হলো জীবন্ত জীবাশ্ম। Cycas উদ্ভিদটি যে Cycadales বর্গের অন্তর্গত তাদের অধিকাংশ উদ্ভিদই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদেরকে এখন শুধুমাত্র জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়। এ বর্গের Cycas উদ্ভিদটি এখনও বেঁচে আছে। এজন্যই Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রুপ 'A' হলো শৈবাল এবং গ্রুপ 'B' হলো ছত্রাক। শৈবাল ও ছত্রাকের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত স্বতন্ত্র উদ্ভিদ হলো লাইকেন। নিম্নে লাইকেনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো- লাইকেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিষমপৃষ্ঠ থ্যালাসবিশিষ্ট উদ্ভিদ। এদের থ্যালাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধূসর বর্ণের বা সবুজাভ ধূসর বর্ণের হয়। লাইকেন সাধারণত এমন সব পরিবেশে জন্মে, যেখানে অন্য কোন জীব বেঁচে থাকতে পারে না। যেমন- অনুর্বর, বন্ধ্যা, বালু বা পাথরের মতো আবাসে এরা স্বাচ্ছন্দ্যে জন্মাতে পারে। এরা গাছের বাকল, সজীব পাতা, পাকা দেয়াল ইত্যাদি বস্তুর উপর জন্মে থাকে। প্রকৃতিতে তিন প্রকৃতির লাইকেন হয়েছে।
i. ক্রাস্টোজ লাইকেন: এ ধরনের লাইকেনের থ্যালাস মাধ্যমের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত অবস্থায় জন্মে, যা পাতলা, চ্যাপ্টা ও শক্ত খোলস বা আবরণী সৃষ্টি করে। যেমন- Graphis, Lecanora ইত্যাদি।
ii. ফলিয়োজ লাইকেন: ফলিয়োজ লাইকেনের থ্যালাস চ্যাপ্টা, পাতার ন্যায়, শাখান্বিত, কিনারা খন্ডিত বা ঢেউ খেলানো। যেমন- Parmelia, Xanthoria, Collema ইত্যাদি।
iii. ফুটিকোজ লাইকেন: এ ধরনের লাইকেনের থ্যালাস বহুল শাখান্বিত, নলাকার, ফিতার ন্যায় চ্যাপ্টা বা সূত্রাকার। ফুটিকোজ লাইকেন সাধারণত মাধ্যমের সাথে খাড়াভাবে বা ঝুলন্ত অবস্থায় জন্মে। যেমন- Cladonia, Usnea ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রুপ 'A' (শৈবাল) ও গ্রুপ 'B' (ছত্রাক) এর মধ্যে বৈসাদৃশ্য-এর সাথে সাদৃশ্যও বিদ্যমান। নিম্নে শৈবাল ও ছত্রাকের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-
শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই থ্যালয়েড। উভয়েরই দেহে ভাস্কুলার টিস্যু অনুপস্থিত। ছত্রাক ও শৈবাল উভয়ই সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ উভয়েরই কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। শৈবাল ও ছত্রাক উভয়ের জননাঙ্গ বন্ধ্যাকোষ দিয়ে আবৃত থাকে না। আবার শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অর্থাৎ এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে। কিন্তু ছত্রাকের দেহে ক্লোরোফিল নেই। শৈবালের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত। কিন্তু ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। শৈবালের খাদ্য শ্বেতসার হিসেবে জমা থাকে, অপরদিকে ছত্রাকের খাদ্য গ্লাইকোজেন বা তৈলবিন্দু হিসেবে জমা থাকে। শৈবাল আলোর উপর নির্ভরশীল তাই আলো ছাড়া অন্ধকারে বাঁচতে পারে না। অপরদিকে ছত্রাক আলোর উপর নির্ভরশীল নয়। এরা আলো ও অন্ধকার উভয় পরিবেশে বাঁচতে পারে। অধিকাংশ শৈবাল পানিতে বাস করে, কিন্তু ছত্রাকের অধিকাংশ স্থলে বাস করে।