| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হাবিব পুরান ঢাকায়…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – ভূমিরুপ পরিবর্তন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

হাবিব পুরান ঢাকায় তার খালার বাসায় থেকে পড়াশুনা করছে। সে খেয়াল করলো, দালানের ফাটলের মধ্যে গাছ জন্মানোর ফলে ফাটলগুলো আরও বড় হয়ে যাচ্ছে এবং জানালার রডগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
ভূপৃষ্ঠের ছিদ্র, ফাটল বা দুর্বল অংশ ভেদ করে ভূবহিস্থ বাষ্প, গলিত ধাতব পদার্থ, উত্তপ্ত প্রস্তর খণ্ড, কর্দম, ধুম্র, ভস্ম প্রভৃতি সশব্দে বা নিঃশব্দে নির্গত হয়ে যে উচ্চভূমির সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
নদীর নিম্নগতিতে স্রোতের বেগ খুব কমে যায় এবং নদী বাহিত শিলাচূর্ণ, বালি, কাদা প্রভৃতি তলানিরূপে সঞ্চিত হতে থাকে। নদী যদি স্রোতহীন সমুদ্রে পড়ে, তাহলে ঐ সমস্ত তলানি নদীর মুখে জমতে জমতে নদীর মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং কালক্রমে ঐ চর সমুদ্রের পানি সমতলের উপরে উঁচু হয়ে ওঠে। তখন নদী বিভিন্ন শাখায় ঐ চরকে বেষ্টন করে সমুদ্রে পতিত হয়। নদী মোহনাস্থিত ত্রিকোণাকার এ নতুন ভূমিকে বদ্বীপ বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দালানের ফাটল বড় হওয়া জৈবিক বিচূর্ণীভবন এর অন্তর্গত। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়সাধনে উদ্ভিদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। উদ্ভিদ প্রতিনিয়ত ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন করে থাকে। বিভিন্ন প্রকার গাছপালা তাদের মূল ও শিকড় দ্বারা মাটিকে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে থাকে। গাছের মূল ও শিকড় বৃদ্ধির সাথে সাথে মোটা হয় এবং মাটির নিচে বহুদূর পর্যন্ত প্রবেশ করে। ফলে শিলাস্তরে ফাটল বৃদ্ধি পায়। তখন ঐ ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করে শিলাস্তরকে দুর্বল করে ফেলে। ফলে শিলাস্তর সহজে গলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, আলোচ্য উদ্দীপকে দালানের ফাটলের মধ্যে গাছ জন্মানো জৈবিক বিচূর্ণীভবনের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জানালার রড নষ্ট হওয়া রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের অন্তর্গত। উক্ত বিচূর্ণীভবনের ফলাফল বিশ্লেষণ করা
হলো-
রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলে ভূত্বকের শিলাসমূহের যে ক্ষয় হয়, তাকে রাসায়নিক বিচূর্ণীভবন বলে। একে জারণ বা অক্সিডেশনে ভাগ করা যায়।
জারণ বা অক্সিডেশন: শিলার মধ্যে লৌহজাতীয় খনিজ পদার্থ থাকলে
তা অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে মরিচা পড়ে। স্বাভাবিক অবস্থায় অক্সিজেন শিলারাশিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে না পারলেও বায়ুতে অধিক জলীয়বাষ্প থাকলে তা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিলারাশিকে খন্ড-বিখণ্ড করতে পাবে। জলীয়বাষ্পের সাথে মিশে অক্সিজেনের এরূপ রাসায়নিক ক্রিয়াকে জারণ বা অক্সিডেশন বলে। উল্লিখিতভাবে উদ্দীপকের জানালার রডগুলো অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া করে ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয় এবং সহজেই খণ্ড-বিখণ্ড হয়। যাকে মরিচা পড়া' বলা হয়। একারণেই রডগুলো লোহার হওয়ায় সহজে মরিচা ধরে 'নষ্ট হয়ে যায় যা রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের অন্তর্গত জারণ ক্রিয়া।