| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হাইড্রা তার বিশেষ…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

হাইড্রা তার বিশেষ কোষের অঙ্গাণুর সাহায্যে চলাফেরা, আত্মরক্ষা ও খাদ্য ধরে এবং হাইড্রা অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশেও বংশবৃদ্ধি করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Hydra-র পরিস্ফুটনের সময় গ্যাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় দ্বিস্তরবিশিষ্ট গ্যাস্টুলার পরিণত হয়। এটি এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও আদি সিলেন্টেরণ নিয়ে গঠিত। মাতৃদেহের সাথে সংযুক্ত এ গ্যাস্টুলাকে স্টেরিওগ্যাস্টুলা বলে।
বিভাজন কোনো স্বাভাবিক জনন প্রক্রিয়া নয় কারণ এটি দৈবাৎ সংঘটিত হয়। কোনো বাহ্যিক কারণে Hydra-র দেহ দুই বা ততোধিক খণ্ডে বিভক্ত হলে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন হাইড্রা জন্মায়। এক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অংশের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ তড়িৎ গতিতে বিভাজিত ও রূপান্তরিত হয়ে বিভিন্ন কোষ সৃষ্টি করে। এ কারণেই বলা হয় Hydra-র স্বাভাবিক মৃত্যু নাই।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট কোষ। এবং নিডোসাইট কোষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নেমাটোসিস্ট। নিচে Hydra-র বিভিন্ন নেমাটোসিস্টের শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করা হলো-
১. স্টিনোটিল: হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে এগুলোই বৃহত্তম। এদের সূত্রক লম্বা, ফাঁপা, শীর্ষ উন্মুক্ত, বাট প্রশস্ত এবং তিনটি বড় তীক্ষ্ম বার্ব ও তিন সারি সর্পিলাকারে সজ্জিত অতি ক্ষুদ্র বার্বিউল যুক্ত। এর ভেতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত তরল থাকে।
২. ভলভেন্ট : এগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু সূত্রকটি খাটো, মোটা, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন এবং বন্ধ শীর্ষযুক্ত।
৩. স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট: এর সূত্রক লম্বা, দেহ সর্পিলাকারে সজ্জিত কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।
৪. স্ট্রেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট: এগুলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট, সূত্রক লম্বা, অসংখ্য ও অতি ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।
উদ্দীপকে 'উল্লেখিত প্রাণীটি হলো Hydra। Hydra অনুকূল পরিবেশে এবং প্রচুর খাদ্য প্রাপ্তির ফলে মুকুলোদগম প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে থাকে। নিচে চিত্রসহ Hydra-র মুকুলোদগম প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের সাহায্যে হাইড্রার অযৌন জনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়াকে মুকলোদগম বলা হয়। এ প্রক্রিয়ার শুরুতে দেহের 'মধ্যাংশ বা নিম্নাংশের কোনো ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র স্ফীত অংশের সৃষ্টি করে যা ক্রমশ বড় হয়ে ফাঁপা, নলাকার মুকুল-এ পরিণত হয়। মুকুলটি মাতৃ হাইড্রা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে বড় হয় এবং শীর্ষপ্রান্তে গঠিত হয় মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম ও কর্ষিকা। পরবর্তীতে মুকুলের সংযোগস্থলে খাঁজ সৃষ্টি হয় যা গভীর হয়ে অপত্য হাইড্রাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে শিশু হাইড্রা নতুন জীবন যাপন শুরু করে।