| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হাইড্রার বহিঃত্বকে অবস্থিত…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

হাইড্রার বহিঃত্বকে অবস্থিত এক ধরনের কোষ শিকার ধরা এবং চলনে সহায়তা করে। তাছাড়া এর গ্যাসটোডার্মিসে এক ধরনের উদ্ভিদ বাস করে। এইসব স্থানে উভয়ে উপকৃত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Cnidaria পর্বের প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক, পাতলা, বর্ণহীন, অকোষীয় স্তরটির নাম মেসোগ্লিয়া।
যেসব প্রাণীর ভূণে দুটিমাত্র কোষস্তর যেমন- এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম থাকে সেগুলোকে দ্বিস্তরী প্রাণী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী বলে। এ দুই স্তরের মাঝে অকোষীয় জেলির মতো মেসোগ্লিয়া থাকে। Cnidaria পর্বের সব প্রাণীই দ্বিস্তর বিশিষ্ট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষটি হলো নিডোসাইট বা নিডোব্লাস্ট ৷ নিম্নে একটি আদর্শ নিডোসাইটের গঠন বর্ণনা করা হলো:
১. আবরণ: প্রতিটি কোষ দ্বিত্তরী আবরণে আবৃত । স্তর দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম এবং কোষের গোড়ার দিকে একটি নিউক্লিয়াস থাকে।
২. নেমাটোসিস্ট: নিডোসাইটের অভ্যন্তরে অবস্থিত, কাইটিনের মতো পদার্থে নির্মিত আবরণে আবৃত ও সূত্রকযুক্ত একটি, ক্যাপসুলের নাম নেমাটোসিস্ট। আদর্শ নিডোসাইটে ক্যাপসুলটি প্রোটিন ও ফেনল-এর সমন্বয়ে গঠিত বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন-এ পূর্ণ থাকে। লম্বা, সরু, ফাঁপা সূত্রকটি যা প্রকৃতপক্ষে ক্যাপসুলেরই অগ্ৰপ্রান্তের অভিন্ন প্রসারিত অংশ সেটি অবস্থান করে। সূত্রকের চওড়া, গোড়াটিকে বাট বা শ্যাফট বলে। এতে তিনটি বড় তীক্ষ কাটার মতো বার্ব ৷ এবং সর্পিল সারিতে বিন্যস্ত ক্ষুদ্রতর কাটার মতো অসংখ্য বার্বিওল দেখা যায়।
৩. অপারকুলাম: স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্টের সূত্রক ও ক্যাপসুল যে ঢাকনা দিয়ে আবৃত থাকে তার নাম অপারকুলাম ৷ উন্মুক্ত অবস্থায় এটি পাশে সরে যায়।
৪. নিডোসিল: নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তের শক্ত, দৃঢ়, সংবেদনশীল কাটাটি নিডোসিল। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি রূপান্তরিত সিলিয়াম৷ নিডোসিল ট্রিগারের মতো. কাজ করে ফলে অপারকুলাম সরে যায় এবং প্যাচানো সূত্রকটি বাইরে বেরিয়ে আসে।
৫. পেশিতন্ত ও ল্যাসো: কোষের সাইটোপ্লাজম ও নেমাটোসিস্টের প্রাচীরে সঙ্কোচনশীল কিছু পেশিতন্তত থাকে। এছাড়াও কোষের নিচের প্রান্তে ল্যাসো নামের একটি প্যাচানো সূত্রক দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীব দুটির মধ্যে একটি হলো Chlorohydra নামক Hydra এবং সবুজ জীবটি হলো Zoochlorella নামক শৈবাল। এদের একত্রে বসবাস মিথোজীবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মিথোজীবিতা হলো এমন বিশেষ ধরনের সহাবস্থান যেখানে ভিন্ন প্রজাতির দুটি জীবের উভয়ে উভয়ের নিকট থেকে উপকৃত হয়। নিচে হাইড্রা ও সবুজ শৈবালের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
শৈবালের প্রাপ্ত উপকার:
◉ শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মাল (অন্তঃকোষীয়) পেশি-আবরণী কোষে আশ্রয় পায়।
◉ হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট কে সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
◉ হাইড্রার বিপাকীয় কাজে উদ্ভূত নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থকে আমিষ তৈরির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।
হাইড্রা যেভাবে উপকৃত হয় :
◉ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে খাদ্য প্রস্তুত করে তার উদ্বৃত্ত অংশ গ্রহণ করে হাইড্রা শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাব পূরণ করে।
◉ সালোকসংশ্লেষণকালে শৈবাল যে নির্গত করে হাইড্রা তা শ্বসনে ব্যবহার করে।
◉ হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট শৈবাল গ্রহণ করে প্রাণীকে ঝামেলামুক্ত করে।
◉ হাইড্রার বিপাকে সৃষ্ট - ঘটিত বর্জ্য শৈবাল কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় হাইড্রা সহজেই বর্জ্য পদার্থ মুক্ত হয়।
সুতরাং হাইড্রা ও সবুজ শৈবাল একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে মিথোজীবিতা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ উভয় উভয়ের কাছ থেকে উপকৃত হয়।