| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হাসনা গরিবের মেয়ে।…’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

হাসনা গরিবের মেয়ে। তার বাবা অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে সংসার চালায়। হাসনা স্কুলে যায়। পড়াশোনার প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ। কিন্তু তার বাবা তাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে। পড়ার খরচ জোগানের মতো আর্থিক সচ্ছলতা হাসনার বাবার নেই। তবু হাসনা হতাশ হয় না। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, যেকোনো মূল্যেই সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। তাকে বড় হতে হবে। বাবার দারিদ্র্য সে দূর করবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দ প্রচলিত হবে।
➤ 'শমস-উল-ওলামা' বলতে লেখক মুসলিম সমাজের পুরুষের বিদ্যার সর্বোচ্চ শ্রেণিতে আসীন হওয়ার সুযোগ-সুবিধা বোঝাতে চেয়েছেন।
➤ 'শমস-উল-ওলামা' হলো জ্ঞানী ব্যক্তিদের উপাধি। এই উপাধির অর্থ ওলামা বা জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া এই শব্দটি দ্বারা তৎকালীন মুসলিম সমাজে পুরুষের শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা লাভের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, পুত্রদের বিদ্যালয়ের সংখ্যা করা যায় না, বালিকাদের বিদ্যালয় সংখ্যা পাওয়াই যায় না। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থায় যে স্থলে ভাই 'শমস-উল-ওলামা' সেই স্থলে বোন 'নজম-উল-ওলামা' হতে পারে না।
সারকথা: শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য। লেখক মুসলিম সমাজের পুরুষের বিদ্যার সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা বোঝাতে কথাটি বলেছেন।
➤ উদ্দীপকের হাসনা চরিত্রে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়ার উল্লিখিত সমাজের শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদতার এবং তা থেকে উত্তরণে দৃঢ় ও ইস্পাতকঠিন মনোবল ফুটে উঠেছে।
➤ আমাদের সমাজে নারীরা বরাবরই অবহেলিত। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য একজন পুরুষকে যত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, নারীকে তা দেওয়া হয় না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উড়িয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা নারীর কাছে যুদ্ধসম।
➤ উদ্দীপকে হাসনা গরিবের মেয়ে। তার বাবা অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে সংসার চালায়। তার বাবা তাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে। পড়ার খরচ জোগানোর মতো আর্থিক সচ্ছলতা হাসনার বাবার নেই। অপরদিকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতাও দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারূণ স্বার্থপরতাকে আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকও রক্ষণশীলতার অজুহাতে পিতৃ-পরিবারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হন। উদ্দীপকের হাসনারও দারিদ্র্যের অজুহাতে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে চায় তার বাবা- মা। উদ্দীপকের হাসনার চরিত্রে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদ্ধড়া এবং তা থেকে উত্তরণের দৃঢ় মনোবলের দিকটি ফুটে উঠেছে।
সারকথা: সমাজের শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদতা এবং সেখান থেকে উত্তরণের মনোবলের বিষয়টি উদ্দীপকের হাসনা চরিত্রের ১ মধ্যে ফুটে উঠেছে।
➤ 'যেকোনো মূল্যেই সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে'- উক্তিটির মধ্যে হাসনার 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত দৃঢ় ইচ্ছা ও তা বাস্তবায়নে ইস্পাতকঠিন মনোবল প্রকাশ পেয়েছে।
➤ পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা বরাবরই পদদলিত। সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। বরাবরই তাদের অবহেলার চোখে দেখা হয় এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়াও নারী জাতির মধ্যে এ সত্যটি প্রজ্বলিত করতে চেয়েছেন যে, সমাজ উন্নয়ন ও প্রগতি অর্জনের ক্ষেত্রে, সর্বাগ্রে নারী জাগরণ আর তার জন্যে যেকোনো মূল্যে তাকে শিক্ষিত হতে হবে। উদ্দীপকে হাসনার দারিদ্র্যের কারণে এবং বাবা-মায়ের অসচেতনতায় পড়ালেখা বন্ধ হাওয়ার উপক্রম হলেও সে হতাশ হয় না। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যেকোনো মূল্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।
➤ উদ্দীপকের হাসনার দৃঢ় ইচ্ছা ও মনোবলে প্রকাশ পেয়েছে সে যেকোনো উপায়েই হোক 'অধালী' প্রবন্ধের বক্তব্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। কেননা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারীজাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত এবং যুক্তিযুক্ত ইচ্ছা লেখক প্রকাশ করেছেন তার প্রতিফলন আমরা উদ্দীপকের হাসনার জীবনবাস্তবতায় প্রত্যক্ষ করি।
সারকথা: উদ্দীপকের হাসনা চরিত্রে নিজের অবস্থার উন্নতির দৃঢ় ইচ্ছা ও মনোবল প্রকাশ পেয়েছে এবং 'অধানী' প্রবন্ধে শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদতা এবং তা থেকে উত্তরণের দৃঢ় মনোবলের দিকটি ফুটে উঠেছে।