| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”হাত রাখো বৈঠায়…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো
আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর। দেখো
মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে
লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।
আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
"সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখা” বলতে অধিকার আদায় ও মুক্তির জন্য বুকের মধ্যে তেজোদীপ্ত চেতনা লালনকে বোঝানো হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলেছেন। তিনি এ কবিতা বিভিন্ন বিষয় অনুষঙ্গ সহযোগে বাংলার মানুষের সাহসী চেতনাকে উজ্জীবিত করেছেন। সাধারণভাবে সূর্য সব শক্তির উৎস। কবি ভেবেছেন এই সর্বশক্তির আধারকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে মুক্তি অনিবার্য। আর মুক্তি যদি অর্জিত হয় তাহলে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। এ ধারণায় কবি প্রত্যেকের হৃদয়ে সূর্যের শক্তির মতো তেজোদীপ্ত চেতনার লালন প্রত্যাশা করেছেন। তাই তিনি অধিকার আদায় ও অধিকার রক্ষার জন্য সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখার কথা বলেছেন।
মৃত্তিকাসংলগ্ন মানুষ হিসেবে আত্মপরিচয়ের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষের মৃত্তিকাসংলগ্ন ও শ্রমনির্ভর জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করেছেন। বস্তুত, বাঙালি জাতির ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। হাজার বছরের এই পথ পরিক্রমায় বাঙালিরা নিজেদের শ্রম-ঘামেই এ অঞ্চলে সভ্যতার সূচনা করেছে। আর তাই সুদীর্ঘকাল ধরেই বাংলা অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা বিকশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে করি আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে বৈঠায়, লাঙলে হাতের স্পর্শ লেগে থাকার কথা বলে তাঁর মৃত্তিকাসংলগ্ন জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেছেন। একইভাবে, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও কবি নিজের তথা বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষ যে কৃষিজীবী ছিলেন সেই কথা গর্বের সাথে উচ্চারণ করেছেন। শ্রমনিষ্ঠার মাধ্যমেই। তারা বিরূপ পরিবেশেও নিজেদের টিকিয়ে রেখেছিলেন। আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবিদ্বয় তাদের মৃত্তিকাসংলগ্নতার কথা উল্লেখ করেছেন। এ দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
পূর্বপুরুষদের কথা ও তাঁদের অনাদি অতীতের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা বর্ণিত না হওয়ায় "উদ্দীপকটিতে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি এদেশের হাজার বছরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যিক নানা অনুষঙ্গের কথা উত্থাপন করেছেন। বাঙালিদের পূর্বপুরুষরা মূলত কৃষিজীবী ছিলেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আর শ্রমনিষ্ঠার মাধ্যমেই বিরূপ পরিবেশেও তারা টিকে ছিলেন। সেই সংগ্রামী মনোভাবই বাঙালিদের স্বাধীনতা লাভে অনুপ্রাণিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর মৃত্তিকাসংলগ্ন মনোভাবকে ব্যক্ত করেছেন। সেখানে বৈঠায়, লাঙলে কবি তাঁর হাতের স্পর্শের কথা বলে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে নিজের একাত্মতাকে তুলে ধরেছেন। কবির ভাবনায় তিনি সেই শ্রমজীবীদেরই একজন প্রতিনিধি। এ-কারণেই তিনি শ্রমজীবীদের কাজের নানা উপকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা নির্দেশ করে আত্মপরিচয় তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা এই মৃত্তিকাসংলগ্ন জীবনযাপনের দিকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা এবং তাঁদের অনাদি অতীতের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা যেকোনো অন্যায়-আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন। এমনকি পরবর্তীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে এসব বিষয় নেই। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতায় উল্লিখিত কবির পূর্বপুরুষদের মৃত্তিকাসংলগ্ন জীবনযাপনের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে, অন্যান্য বিষয় নয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।