| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’হে দারিদ্র্য, তুমি…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কণ্টক-মুকুট শোভা। দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্গেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
লোইসেলের বন্ধুরা ভরতপাখি শিকারে গিয়েছিল।
'মাদাম লোইসেলের জয়জয়কার'- এ কথাটির মাধ্যমে বল নাচের উৎসবে লোইসেলকে সবচেয়ে সুন্দরী ও সুরুচিপূর্ণ দেখানোকে নির্দেশ করা হয়েছে।
মাদাম লোইসেল ছিল চমৎকার এক সুন্দরী নারী। শিক্ষা অফিসের বল নাচের উৎসবে নতুন পোশাক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ জরোয়া গহনা পরীয় তাকে অসম্ভব সুন্দরী ও সুরুচিময়ী দেখাচ্ছিল। সব পুরুষ তাকে লক্ষ করছিল, তার নাম জিজ্ঞাসা করে তার সঙ্গে আলাপের আগ্রহ প্রকাশ করছিল। মন্ত্রিসভার সব সদস্যের তার সঙ্গে নৃত্য করার ইচ্ছে হচ্ছিল। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী তার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছিলেন। মাদাম লোইসেলের সৌন্দর্য ও সাজপোশাককে নির্দেশ করার জন্য আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রথম চরণের দারিদ্র্যকে মহান করে দেখা 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল কর্তৃক দারিদ্র্যকে সংকীর্ণভাবে দেখার দিক থেকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
'নেকলেস' একটি বাস্তবধর্মী ও শিক্ষণীয় গল্প। বাস্তবতাকে অস্বীকার করে মেকি অহংকার ও আড়ম্বরপ্রেম জীবনকে কত ভয়াবহ ও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে, এ গল্পটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মাদাম লোইসেলের উচ্চাভিলাষ তার জীবনের দুর্ভোগের একমাত্র কারণ।
উদ্দীপকের প্রথম চরণে কবি দারিদ্র্যকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। জীবনের নানাবিধ শিক্ষার জন্য কবি দারিদ্র্যকে মহান বলে সম্বোধন করেছেন, দারিদ্র্যের মহৎ সংস্পর্শে কবিও মহান হয়ে উঠেছেন। 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের ক্ষেত্রে ঠিক এর বিপরীত চিত্র ধরা পড়ে। সে উচ্চাভিলাষী। দারিদ্র্য তার কাছে অসহনীয়। তার দুরবস্থার জন্য যে সব সময় ব্যথিত থাকে। তাই উদ্দীপকের প্রথম চরণের সাথে মাদাম লোইসেলের উচ্চাভিলাষী মনোভাব বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'নেকলেস' গল্পের দারিদ্র্যের দিকটি প্রকাশ পেলেও এ গল্পের অন্যান্য দিক অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি এ গল্পের সমগ্রতা ধারণ করতে পারেনি।
'নেকলেস' গল্পে বর্ণিত হয়েছে মাদাম লোইসেলের উচ্চাভিলাষ, আড়ম্বরপ্রেম, রূপ, গৌরব ও মেকি অহংকার, যা শেষ পর্যন্ত তাকে দুর্ভোগের দিকে ধাবিত করে। জীবনের কঠিন শিক্ষার মুখোমুখি হয়ে সে স্বাভাবিক নিয়তিকে স্বীকার করে নেয়। সত্য গোপনের দিকটিও এ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিকে দারিদ্র্য পার্থিব ঐশ্বর্য থেকে বঞ্চিত করলেও আত্মিক শক্তিকে করেছে অদম্য ও মহৎ। এটি কবিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসংকোচ প্রতিবাদী, সত্য উচ্চারণে সাহসী করে তুলেছে। অপরদিকে 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল দারিদ্র্য থেকে প্রথমত শিক্ষা না নিয়ে উচ্চাভিলাষ ও মিথ্যা আড়ম্বরপ্রিয়তায় মত্ত থাকায় দুর্ভোগ ডেকে এনেছিল। শেষ মুহূর্তে তার এ ভুল ভাঙে এবং চরম সত্যে উপনীত হয় সে।
উদ্দীপকের কবিতাংশের মতো জীবনের শেষ মুহূর্তে মাদাম লোইসেল জীবনের সত্যতা ধরতে পারলেও পূর্ববর্তী বিলাসী দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এছাড়াও এ গল্পে বর্ণিত মাদাম ও মসিয়ে লোইসেলের পারিবারিক অবস্থা, বল নাচের দৃশ্য, মসিয়ে লোইসেলের শখ, তাদের জীবনের সংগ্রাম ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। প্রকাশিত হয়নি মাদাম ফোরস্টিয়ারের মতো বান্ধবীর সাথে তার সম্পর্ক ও সত্য গোপন করার ঘটনা। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'নেকলেস' গল্পের সমগ্রতা ধারণ করতে পারেনি।