হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ।
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।
হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান।
…. …. ….
শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়;
জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার-
তবু মাথা নোয়াবার নয়।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
বাঙালি নারীদের বিলাপ-প্রলাপপূর্ণ পদ্যের অশ্রুজলের বন্যায় বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের স্বভাবকবি বলে হাস্যরস করেছেন। তারা বিনা কারণে কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটিয়ে থাকে। তারা তাদের ব্যক্তিজীবনের অভাব, দারিদ্র্য, দুঃখ সামনে এনে এ ধরনের অশ্রুপ্রবাহ ঘটায়। অথচ তারা এই দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা চালায় না। তারা তাদের কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটাতে গিয়ে বিশেষণের অতিশায়নের মধ্য দিয়ে নানাবিধ নতুন শব্দ উৎপাদন করে, যা অশ্রুপ্রবাহের উপযোগী। প্রশ্নোক্ত বাক্যে লেখিকা বাঙালি নারীদের কাব্যক্ষেত্রে সেই বাড়াবাড়ি তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বাঙালির সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির স্বভাবগত ভীরুতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা আত্মপ্রশংসার পরিবর্তে কর্মমুখী হয়ে আত্মোন্নতির পথে অগ্রসর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতিকে দুর্বল নিরীহ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের আচরণ। এরূপ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে বাঙালির দেহ তৈলসিক্ত কোমল। স্বভাবও তাই ভীরু। উদ্দীপকে বাঙালি জাতির ঠিক বিপরীত স্বভাবটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বাঙালির সাহসী জাগরণ বর্ণিত হয়েছে। নিরীহ মাটিতে সচেতনতার ফসল ফলিয়ে পুরো বিশ্বের বুকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে বাঙালি জাতির স্বভাবগত ভীরুতার দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি জাতির প্রকৃত স্বরূপ হিসেবে তাদের সহজ সহনশীলতা, আবেগপ্রবণ মানসিকতা এবং আত্মসমালোচনার অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালি অলস, অকর্মণ্য ও আরামপ্রিয় জাতি। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের আত্মোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। নিজেদের শক্তি ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই অলসতা থেকে মুক্তি না পেলে বাঙালি কোনোদিনও উন্নতি করতে পারবে না।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনাচরণের নানা দিক হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। বাঙালির আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর মানসিকতা; তাদের স্ত্রীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক চেষ্টাকে লেখিকা তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বাঙালি জাতির অধিকার সচেতন আত্মজাগরণ ঘোষিত হয়েছে। তাদের সদম্ভ আত্মজাগরণে সারা বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে।
উদ্দীপকে বাঙালির সচেতন কর্মপ্রচেষ্টার দ্বারা বিপ্লবের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। বাঙালির এ জাগরণ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের লেখিকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মধ্য দিয়ে বাঙালি নারী-পুরুষকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। ফলে এটি বাঙালিকে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়। 'এ দিক বিচারে উদ্দীপকে যে জাগরণ ঘটেছে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে তারই প্রণোদনা রয়েছে।
