| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইতিহাস পথ নিল…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ইতিহাস পথ নিল কুটিল পদ্মার বাঁকে বাঁকে,
বাবুদে জোয়ার লাগে, পীতাঙ্গ গোঁয়ার বান ডাকে-
এশিয়ার সূর্য ওঠে দোর্দণ্ড প্রতাপ।
আর্তনাদ করে নিতে অগণিত প্রজাপুঞ্জ
বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়;
যে ক্লীব পালাবে তার মুক্তি নেই আর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমিনা বেগম।
প্রজাদের দুর্ভোগের জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ না করে আত্মগ্লানি প্রকাশ করতে গিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা একথা বলেছেন।
উৎপীড়িত ব্যক্তিকে দরবারে ডাকার পূর্বে নবাব তাঁর পারিষদদের ডেকে তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মিরজাফর নবাবকে প্রশ্ন করে, তিনি তাদের সন্দেহ করছেন কি না? কিন্তু নবাব কোনো অভিযোগ জানাতে চান না। বাংলার প্রজাদের সুখ- স্বাচ্ছন্দ্য বিধান না করতে পারায় নিজেকেই অপরাধী আখ্যা দেন তিনি। আর এ প্রসঙ্গেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে নালিশের কথা বলেন।
বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখার পটভূমিগত দিক থেকে উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাংলাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে। কিন্তু দেশপ্রেমী নবাব ইংরেজ বেনিয়া শক্তির এই অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। তিনি দেশপ্রেমী সৈনিকদের সাথে নিয়ে লড়াই করার ঘোষণা দেন।
উদ্দীপকে বিশ্বাসঘাতক প্রভুদের পরিহার করে দেশের কল্যাণমন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে সাহসী বীরদের সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বাসঘাতকদের আগ্রাসন থেকে স্বাধীনতাকে রক্ষায় উদ্দীপকে বর্ণিত এই দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দৃশ্যমান। ফলে নাটকের পটভূমিগত দিক আংশিকভাবে সাদৃশ্যময় হয়ে উঠেছে উদ্দীপকের সাথে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বিশ্বাসঘাতকেরাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নাটকের ক্ষেত্রে যথার্থ নয়।
আলোচ্য নাটকে এদেশকে লুট করেছে বিদেশিরা। তারা এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পলাশির যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত করেছে। ফলে বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি মিরজাফর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুতুল নবাব হয়ে সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলা অপরিসীম দেশপ্রেম ও প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেবল ষড়যন্ত্রের কারণে দেশের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর পতনের ফলে বিশ্বাসঘাতকেরাই ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করেছে।
উদ্দীপকে দেশপ্রেমীদের দেশের কল্যাণমন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে দোর্দন্ড প্রতাপে এশিয়ার সূর্য উঠছে। বিশ্বাসঘাতকদের সেখানে কোনো ঠাঁই নেই। তারা বিদায় নিয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে সত্য ও ন্যায়নীতি।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমীদের পরাজিত হতে দেখা যায়। সেখানে বিশ্বাসঘাতকেরাই বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বিশ্বাসঘাতকদের বিদায় ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বৈপরীত্য সূচিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নাটকের ক্ষেত্রে সত্য হয়ে ওঠেনি।