| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৪ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে ব্যাখ্যা হলো কোনো কিছুকে সহজ বা স্পষ্ট করে তোলা।
লৌকিক ব্যাখ্যায় অদৃশ্য, অতিপ্রাকৃতিক বা অলৌকিক কারণের সাহায্যে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় বলে লৌকিক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
যে ব্যাখ্যায় অদৃশ্য, অতিপ্রাকৃতিক বা অলৌকিক কারণের সাহায্যে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। এ ধরনের ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন হয়ে থাকে। লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধ্যানধারণার ওপর নির্ভরশীল । তাই এ প্রকার ব্যাখ্যার কোনো যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক মূল্য নেই।
দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তি রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি অন্যতম রূপ। অনেক সময় *আলোচ্য ঘটনাকে তার চেয়ে বড় কোনো ঘটনার অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এ ধরনের প্রক্রিয়াকেই বলা হয় 'অন্তর্ভুক্তি'। এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়মকে তার থেকে ব্যাপকতর নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন— জোয়ার-ভাঁটার নিয়মকে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে আমরা তাকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করি। মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম একটি সার্বিক নিয়ম । এ নিয়মের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা প্রযোজ্য সেই ব্যাখ্যাই জোয়ার-ভাঁটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লেখিত 'বাংলাদেশ' পদটি সার্বিক বা সামগ্রিক ধারণাকে নির্দেশ করে। আর 'ঢাকা' পদটি বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে। উল্লেখিত দৃষ্টান্তের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, 'ঢাকা' স্থানটি ‘বাংলাদেশ” এর অন্তর্ভুক্ত। এভাবে বলা যায়, বিশেষ পদটি সার্বিক পদের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত দৃষ্টান্ত হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ‘অন্তর্ভুক্তি’ রূপ।
দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন ও 'অন্তর্ভুক্ত' রূপ দুটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
যে ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি বৈশিষ্ট্য হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সংযুক্তির সাথে যুক্ত। কারণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যখন কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে একই জাতীয় অন্য ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়। এই যুক্ত করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সংযুক্তিকরণ বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সার্বিকীকরণ বা আরোহ পদ্ধতির সাথে যুক্ত।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে অন্যান্য ঘটনার সাথে যুক্ত করে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয় । এই কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় অনুমানের ভিত্তিতে। এই অনুমান হলো আরোহমূলক অনুমান। তাই আরোহ অনুমানের মতোই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সার্বিকীকরণ করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়ও শ্রেণিকরণের ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এ ব্যাখ্যায় প্রকল্প প্রণয়ন প্রয়োজন হয়। কারণ এ ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা লৌকিক ব্যাখ্যা থেকে অধিক পরিমাণে প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিযুক্ত।