| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৫ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞা মতে, মনোবিজ্ঞান 'হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া অনুধ্যান করে।
উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়াই হলো আচরণ। আচরণকে 'প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
১. সামগ্রিক আচরণ ও খন্ডিত আচরণ: সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয় অপরদিকে খণ্ডিত আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খন্ড খন্ড বা সূক্ষ্ম উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়।
২. ঐচ্ছিক আচরণ ও অনৈচ্ছিক আচরণ: যেসব আচরণ ব্যক্তি সচেতনভাবে করে অর্থাৎ যে সকল আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। আবার কতগুলো আচরণ আছে যেগুলো ব্যক্তির ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে।
৩. বাহ্যিক আচরণ ও অভ্যন্তরীণ আচরণ: বাইরে থেকে যে সকল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায় তাদেরকে বাহ্যিক আচরণ বলে। আবার যে সকল আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে।
ডায়াগ্রাম ১ এ মনোবিজ্ঞানের সমাজ মনোবিজ্ঞান ও শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান শাখা সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে। মানুষের সামাজিক আচরণই সমাজ মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু। কিভাবে শিশুর সামাজিকীকরণ ঘটে, সমাজীকরণের মাধ্যমগুলো কিভাবে কাজ করে, কিভাবে মনোভাব গড়ে ওঠে, কিভাবে গুজব ছড়ায়, অপরাধ এবং অপরাধ দমন প্রভৃতি সমাজ মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। আবার সমাজ মনোবিজ্ঞানিগণ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে দলের এবং দলের সাথে দলের কি সম্পর্ক তা নির্ণয়ের চেষ্টাও করে থাকেন। অপরদিকে শিল্প কারখানার শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয় ভুক্ত। কর্মচারীর দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি ও কর্মের সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য।
সুতরাং আমরা বলতে পারি ডায়াগ্রাম-১ এর ক সমাজ মনোবিজ্ঞান ও খ শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান শাখা সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে।
ডায়াগ্রাম ২ এ আধুনিক যুগ হবে।
আধুনিক যুগ: জার্মান মনোবিজ্ঞানী উইলহেম উন্ড জার্মানির লিপজিগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মনোবিজ্ঞানের গবেষণাগার স্থাপনের পর তখন থেকে মনোবিজ্ঞানের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। তাঁর মতে, সংবেদনই একমাত্র মানসিক ক্রিয়া যাকে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা যায়। তাঁর গবেষণা থেকে মানুষের চেতনা সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা গিয়েছে। উন্ড ও তাঁর সঙ্গীরা মানসিক কার্যকলাপকে দৈহিক ক্রিয়া থেকে পৃথক করে প্রত্যক্ষ করতেন।
রাশিয়ান বিজ্ঞানী শেখেনভ (১৮৬৩) মত দেন যে, সব রকম মানসিক ক্রিয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। কিছুদিন পর তাঁর ছাত্র প্যাভলভ (১৮৪৯-১৯৩৬) শেখেনভের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয় যে, যেকোনো মানসিক ক্রিয়া সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। দার্শনিক কার্ল মার্কস এই মতবাদকে আরো সংগঠিত করেন। তাঁর মতে, চেতনা হলো মস্তিষ্কের সামগ্রিক ক্রিয়ার ফল। কার্ল মার্কস ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও প্রাণিবিজ্ঞান থেকে বহু তথ্য সংগ্রহ করে প্রমাণ করেছেন যে, সচেতনতা নির্ভর করে মস্তিষ্কের গড়ন ও জটিলতার উপর।