| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হোসেন মিয়া সাধারণ…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

হোসেন মিয়া সাধারণ মাঝি থেকে নিজ পরিশ্রমে অনেক বিত্তশালী আজ। তিনি ময়নাদ্বীপের মালিক। পদ্মাপাড়ের কেতুপুর গ্রামের জেলেপাড়ার কুবের মাঝিদের তিনি অসময়ের বন্ধু। হোসেন মিয়া তাঁর স্বপ্নের ময়নাদ্বীপকে বানাতে চান একখণ্ড মানবিক পৃথিবী। তাই তাঁর ময়নাদ্বীপে বসবাসকারীদের মধ্যে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্ম- অধর্মের তফাত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদকে মতিগঞ্জের সড়কে প্রথম তাহের ও কাদের দেখেছিল।
'যেন হাস্নাহেনার মিষ্টিমধুর গন্ধ ছড়ায়'- উক্তিটিতে মজিদের চমৎকার সুরেলা কণ্ঠের কোরআন তেলাওয়াতের কথা বলা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চমৎকার কোরআন তেলাওয়াত করে। গলা ভালো তার, পড়ার ভঙ্গিও মধুর। একটা চমৎকার সুরে সারা বাড়ি ভরে যায়। এ প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে, 'যেন হাস্নাহেনার মিষ্টিমধুর গন্ধ ছড়ায়।'
উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য হলো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ, শোষণ ও প্রতারণায়।
আদর্শের কারণে মানুষের সঙ্গে মানুষের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কেউ' মানবিক পৃথিবী কামনা করে, হিংসা-বিদ্বেষহীন জীবন পছন্দ করে, ধর্মের তফাত করে না। আরার কেউ প্রতারণা, শোষণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
উদ্দীপকে একসময়ের সাধারণ মাঝি হোসেন মিয়া বিত্তশালী হয়ে ময়নাদ্বীপের মালিক হন। তিনি কেতুপুর গ্রামের জেলেপাড়ার মাঝিদের অসময়ের বন্ধু। তিনি তাঁর স্বপ্নের ময়নাদ্বীপকে একখণ্ড মানবিক পৃথিবী বানাতে চান, যেখানে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্ম-অধর্মের তফাত। এই হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য বিদ্যমান। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামবাসীর কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শঠতা ও প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মব্যবসায় শুরু করে। গুলিত বিশ্বাসের কাঠামো ও প্রথাবদ্ধ জীবনধারাকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়, ওই জীবনধারার সে প্রভু হতে চায়, চায় অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হতে। এজন্য সে যেকোনো কাজ করতেই প্রস্তুত, তা যতই' নীতিহীন বা অমানবিক হোক। উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের এখানেই আদর্শগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
"উদ্দীপকের একখণ্ড মানবিক পৃথিবী 'লালসালু' উপন্যাসের লেখকের মানসচিন্তাকে ধারণ করে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রতারণা, শঠতা আর শাসনের জটিল এবং সংখ্যাবিহীন শেকড় আমাদের সমাজজীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পরতে পরতে ছড়ানো। কিন্তু মানুষের স্বপ্ন, সাধ থাকে মানবিক এক পৃথিবী বা সমাজের, যেখানে থাকবে মানুষের সাধারণ প্রাণধর্মের উপস্থিতি।
উদ্দীপকের হোসেন মিয়া তাঁর ময়নাদ্বীপকে বানাতে চান একখণ্ড মানবিক পৃথিবী। তাঁর ময়নাদ্বীপে বসবাসকারীদের মধ্যে থাকবে না
হিংসা-বিদ্বেষ এবং ধর্মের বিভেদ। এই একখণ্ড মানবিক পৃথিবী যেন 'লালসালু' উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর মানসচিন্তায় ধারণ করেছেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মানবতাবাদী লেখক। মানবমুক্তির স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তাঁর সাহিত্যসাধনার কেন্দ্রে সক্রিয়। এ দেশের মানুষের সুসংগত ও স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের অন্তরায়গুলোকে তিনি তাঁর রচিত সাহিত্যের পরিমণ্ডলে চিহ্নিত করেছেন। 'লালসালু' উপন্যাসে দেখিয়েছেন কুসংস্কারের শক্তি আর অন্ধবিশ্বাসের দাপট। স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও সমাজ সাধারণ, সরল ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত ও ভীতির মধ্যে রেখে শোষণের প্রক্রিয়া চালু রাখে তার অনুপুঙ্খ বিবরণ তিনি দিয়েছেন 'লালসালু' উপন্যাসে। স্বার্থ ও লোভের বশবর্তী হয়ে একশ্রেণির লোক যে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার নানান ভণ্ডামি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 'লালসালু' উপন্যাসে তার বিরুদ্ধে আঘাত করেছেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মানবতাবাদী লেখক হিসেবে মানবিক এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, যেখানে প্রাণধর্মের সহজ ও স্বাভাবিক বিকাশ থাকবে। উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপ নামক মানবিক পৃথিবীই লেখকের কাম্য। তিনি এমন মানসচিন্তাই ধারণ করেন। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।