| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হঠাৎ দেশে উঠল…’ যশোর বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

হঠাৎ দেশে উঠল আওয়াজ- ‘হো হো।’
চমকে সবাই তাকিয়ে দেখে সিপাহী বিদ্রোহ।
আগুন হয়ে সারাটা দেশ ফেটে পড়ল রাগে
ছেলে বুড়ো জেগে উঠল নব্বই সন আগে।
একশ বছর গোলামিতে সবাই তখন ক্ষিপ্ত
বিদেশিদের রক্ত পেলে তবেই হবে তৃপ্ত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
উমিচাঁদ চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু।
"আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?"- কথাটি মিরন বলেছিল সিরাজউদ্দৌলার কাছে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে আসার পর নবাব তা দেখতে চাওয়া প্রসঙ্গে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেখানে সিরাজের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে আসে মিরজাফরের ছেলে মিরন। নতুন নবাব মিরজাফর আলি খান বিভিন্ন অপরাধের জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বলে জানায় মিরন। তখন নবাব অনেকটা অবিশ্বাসের স্বরে স্বাক্ষর করা দণ্ডাদেশ দেখতে চাইলে মিরন তাঁকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
উদ্দীপকের বিদেশিদের সঙ্গে বিদ্রোহের দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিদেশিরা এ দেশের ওপর বহুবার আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা বাংলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বাঙালিরা তাদের সব অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তাদেরকে দেশছাড়া করেছে।
উদ্দীপকে সিপাহি বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ ও ইংরেজদের দীর্ঘদিনের শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে বাঙালিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই তো তারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এই দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজ কর্তৃক ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ঔদ্ধত্য আচরণ মেনে না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কারণ ব্যবসায়ের নাম করে তারা গোপনে অস্ত্র আমদানি করেছে এবং প্রজাদের নানাভাবে পীড়ন করেছে।
"উদ্দীপকে নির্দেশিত দেশপ্রেম ও সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম অভিন্ন হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নির্মমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলার ওপর বিদেশি বেনিয়াদের লোলুপদৃষ্টি বরাবরই ছিল। তারা এ দেশকে শোষণ করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এ দেশবাসীর ওপর শোষণ চালিয়েছে। কিন্তু বাঙালিরা তা মেনে নেয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাঙালিকে নির্মম পরিণতি দিয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জেনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ফোট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে ইংরেজরা পরাজিত এবং গভর্নর রজার ড্রেক, ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ অনেক ইংরেজ পালিয়ে যায়। নবাবকে না জানিয়ে তারা দুর্গ সংস্কার করেছে বলেও নবাব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের এ বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকের বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে বিদেশি বেনিয়াদের অত্যাচারে বাঙালিদের অতিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পরিণামে দেশপ্রেমী বাঙালিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তাদের রক্তে তৃপ্ত হতে চেয়েছে। অর্থাৎ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চেয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজদের দৌরাত্ম্য ও ঔদ্ধত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। তাদের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদও করতে দেখা যায় বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারেননি। নিকটাত্মীয় ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তিনি নির্মম পরিস্থিতির শিকার হন। শুধু তাই নয়, নির্মম পরিণতি নেমে এসেছে তার জীবনেও। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।