| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘“হঠাৎ নিরীহ মাটিতে…’ নটরডেম কলেজ ২০২৪ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন/জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে/আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ
‘হয় ধান নয় প্রাণ’-এ শব্দে/সারাদেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ/মৃত্যুর ভয় তারা।
শাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী/ অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
ভারত সরকার কাজী নজরুল ইাসলামকে পদ্মভূষণ উপাধি দিয়েছিল
‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ কথার দ্বারা আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে।
‘বিদ্রোহী' কবিতায় কবি বিদ্রোহী হিসেবে নিজের আত্মপরিচয়ের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন । মানবপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বিদ্রোহ করেছেন অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আপন আদর্শে স্থিত কবির এই বিদ্রোহী সত্তা স্বাধীনচেতা, আত্মপ্রত্যয়ী ও নির্ভীক। সংগত কারণেই কারও কাছে মাথা নত করেন না তিনি । প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে ।
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী' কবিতায় কবির বিদ্রোহী চেতনার সাদৃশ্য
রয়েছে।
‘বিদ্রোহী' কবিতায় কবি আত্মজাগরণের' সদম্ভ প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতার বাণী প্রচার করেছেন। কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রাহ ঘোষণা করেছেন। অন্যায়ের অবসান না হওয়া পর্যন্ত কবি কোনো অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কবি অত্যাচারীর সব দম্ভ ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
উদ্দীপকে হঠাৎ নিরীহ, প্রাণহীন প্রান্তরে সচেতনতার ধানের জন্ম হয়েছে যা অনেক রক্ত বিসর্জনের ফল। আত্মঅধিকার আদায় না করা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। উদ্দীপকের মৃত্যু, ভয় সব একপাশে রেখে অন্যায়ের উৎপাটন করে মাথা নত না করার বিষয়টি বিদ্রোহী কবিতার আত্মজাগরণ, অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ের বিদ্রোহী চেতনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবকে পুরোপুরি ধারণ করতে পেরেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি আত্মজাগরণের প্রচার করেছেন, অন্যায়ের অবসানে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের অবসানে মহা-প্রলয়ের নটরাজ, সাইক্লোন হয়ে সব অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা ভেঙে চুরমার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কবি এখানে একসাথে প্রেম ও দ্রোহের বাণী প্রচার করেছেন। ইস্রাফিলের শিঙ্গার হুক্কারে অন্যায়ের অবস্থানের কথা বলেছেন। কোনোভাবেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে আপন মহিমায় নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায় হঠাৎ অনেক মৃত্যু, জরার পর বাংলাদেশের মাটিতে সচেতনতার আবির্ভাব হয়েছে। অন্যায়ের অবসান, স্বাধীনতা নয়-তো মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। মৃত্যুকে ভয় না করে আত্মঅধিকার আদায়ের অমোঘ বাণী প্রকাশ পেয়েছে। সব জ্বলে পুড়ে মরে গিয়ে ছারখার হলেও অধিকার আদায় ছাড়া মাথা নত না করার বাণী প্রচারিত হয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় আত্মঅধিকার আদায়ের জন্য কবি সচেতনতার বীজ বপন করে অন্যায়ের অবসানে মহা প্রলয়, সাইক্লোন হয়ে অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা ভাঙার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার যে বাণী প্রচার করেছেন, তা উদ্দীপকে সচেতনতার ধান এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে সব জ্বলে পুড়ে মরে গেলেও মাথা নত না করার বিষয় উত্থাপনের মধ্য দিয়ে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবকে পুরোপুরি ধারণ করেছে।