| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
'বিলাসী' গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
'বিলাসী' গল্পে গল্পকথক ন্যাড়ার বর্ণনায় মৃত্যুঞ্জয়ের জঙ্গলাকীর্ণ বাড়ির পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয়ের বাস ছিল গ্রামের এক প্রান্তে, বিশ-পঁচিশ বিঘা আয়তনের প্রকাণ্ড এক আম-কাঁঠালের বাগানের মধ্যে বিশাল একটা পোড়োবাড়িতে। এ পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই ছিল না। স্বচ্ছন্দে যে কেউ বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে পারত। রাতের অন্ধকারে ঘন জঙ্গল বাড়ির পরিবেশকে ভুতুড়ে ও ভীতিজনক করে তুলত।
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ।
এমনি উদ্দীপকের জমিদার পুত্র নদের চাঁদ নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে প্রেম করায় নদের চাঁদের বাবা জমিদার মেনে নিতে পারেনি।
উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিল তেমনি বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে আপন করতে সমাজপতিদের চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করেছিল।
"উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ। বিলাসী নারী হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি সমাজপতিদের সামান্য শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। জাত ও বংশ রক্ষার নামে তারা বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। সমাজপতিদের নির্মমতা সহ্য করেও মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বিলাসীর ঘরবাঁধা এ গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। যদিও তাদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ভালোবাসা যেন নির্মম সমাজে নতুন আলোকপ্রভা হয়ে উঠেছে।
উদ্দিপকে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।
তাই দেখা যায় উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পে একই অবয়বে দুইটি প্রেমের উপাখ্যান রচিত হয়েছে।
"উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।"- মন্তব্যটি যথার্থ।