| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘(i) 6CO2+12H2O→BAC6H12O6+6CO2+6H2O(ii) C2H12O6+O2→…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

(i)
(ii)
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
পত্ররন্ধ্রীয় ঘড়ি: পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময়কাল কে পত্ররন্ধ্রীয় ঘড়ি বলা হয়। এ সময়কাল- সকাল ১০-১১টা,বিকাল ২-৩টা পূর্ণ খোলা, ১১-১টা আংশিক খোলা/অর্ধবন্ধ, সূর্যাস্তের পর পূর্ণ বন্ধ।
মাইটোকন্ড্রিয়া নামক সাইটোপ্লাজমিক অঙ্গানুকে কোষের জৈবিক শক্তিঘর অথবা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল বা মাকুর কাছাকাছি অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়ানো দ্বিস্তরী পর্দাবেষ্টিত, দন্ডাকৃতি, গোলাকৃতি, বৃত্ত অথবা তারকাকৃতি বন্ধ থলির মতো শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত সঞ্জীব বস্তুগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। এটি কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজ সম্পাদনের প্রয়োজনীয় শক্তির একমাত্র উৎস। অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
উদ্দীপকের ১ম বিক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ এবং দ্বিতীয় বিক্রিয়াটি হলো শ্বসনের।
আলোকশক্তিকে শোষণ করে তা সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফটোসিনথেসিস। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হয় CO2 পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং CO2 ব্যবহৃত হয় কার্বোহাইড্রেট তৈরির জন্য, পানি ব্যবহৃত হয় রাসায়নিক শক্তি হিসেবে NADPH + H তৈরির জন্য। জীবজগতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রক্রিয়ায় প্রাণিজগতের সমুদয় খাদ্য উদ্ভিদজগৎ প্রস্তুত করে থাকে। কাজেই এ প্রক্রিয়ার উপর প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভিদ জগৎ এবং পরোক্ষভাবে মানুষসহ সমস্ত জীবজগৎ নির্ভরশীল। আমরা কাজকর্ম, চলাফেরা, দৌড়, কুন্তি ইত্যাদিতে যে শক্তি খরচ করি তা আসে খাদ্য হতে, আর খাদ্য তৈরির প্রাথমিক বা মূল প্রক্রিয়া হল সালোকসংশ্লেষণ। আবার, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 শোষিত হয় এবং O2 উৎপন্ন হয়। মানব সভ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় কমলা, পেট্রোল, রেয়ন, সেলোফেন, ফিল্ম, কাগজ, রবার, কুইনাইন, মরফিন, রেসারপিন ইত্যাদি সব কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ফল। মোটকথা উদ্ভিদ ও প্রাণী তথ্য সমগ্র জীবজগৎ তাদের খাদ্য, শক্তি ও জীবনসভার জন্য সম্পূর্ণভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।
অপরদিকে, শ্বসন বা হলো একটি বিপাকীয় ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি প্রাণি পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে ও কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। শারীরবৃত্তীয় শ্বসন হল বাতাস হতে জীবের কলাতন্ত্রে অক্সিজেনের সরবরাহের এবং বিপরীত প্রক্রিয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন প্রক্রিয়া। শারীরবৃত্তীয় শ্বসন প্রাণরসায়ন সংজ্ঞায়িত কোষীয় শ্বসন হতে আলাদা যা জীবের কোষে সংঘটিত হয় এবং এক্ষেত্রে অক্সিজেনের সাথে লুকোজের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কোষ তার প্রয়োজনীয় শক্তি লাভ করে। শারীরবৃত্তীয় শ্বসন এবং কোষীয় শ্বসন উভয়েই জীবের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য।
সুতরাং একথা বলা যায় যে, প্রক্রিয়া দুটি পরস্পর নির্ভরশীল কিন্তু একই নয়।
উদ্দীপকের A ও B হলো যথাক্রমে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
ক্লোরোপ্লাস্ট পাতার মেসোফিল টিস্যুতে অধিক পরিমাণে থাকে। সাধারণত ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল 'B' ক্লোরোফিল 'b' জ্যান্থোফিল ও ক্যারোটিন পিগমেন্টসমূহ থাকে। ch 'a' হলদে-সবুজ, ch 'b' নীলাভ- সবুজ, জ্যান্থোফিল হলুদ এবং ক্যারোটিন কমলা রং সম্পন্ন। Cha একমাত্র পিগমেন্ট যার শোষিত আলোকশক্তি সালোকসংশ্লেষণে কাজে লাগে এবং অন্যান্য পিগমেন্টগুলো তাদের শোষিত আলোকশক্তি ch 'a'-কে প্রদানপূর্বক সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। কতক ch. 'a' অণু (P700) 900 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মি বেশি শোষণ করে এবং কতক ch'a' অণু (P680) ৬৮onm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মি বেশি শোষণ করে।
ক্লোরোফিল অণুসমূহ এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রন গ্রহীতাসমূহ এক সাথে একটি ইউনিট হিসেবে অবস্থান করে। এই ইউনিটকে ফটোসিস্টেম (photosystem) বলে। ফটোসিস্টেম থাইলাকয়েড মেমব্রেনে অবস্থান করে। এবং এতে ৪০০ পর্যন্ত ক্লোরোফিল অণু থাকতে পারে। থাইলাকয়েড
মেমব্রেনে দুধরনের ফটোসিস্টেম থাকে, যথা- (১) ফটোসিস্টেম-১ (PS-1) এবং (২) ফটোসিস্টেম-২ (IS-11) 1 PS-1 (ফটোসিস্টেম-১) এর বিক্রিয়া কেন্দ্রের ক্লোরোফিল অণুটি ৭০০ nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক অত্যন্ত প্রবলভাবে শোষণ করে, তাই একে বলা হয় 1700 | PS-1 (ফটোসিস্টেম-২) এর বিক্রিয়া কেন্দ্রের ক্লোরোফিল-এ অণুটি ৬৮০ nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক অত্যন্ত প্রবলভাবে শোষণ করে, তাই একে বলা হয় P6801
প্রতিটি ফটোসিস্টেমের তিনটি অংশ থাকে; যথা- ১। আলোক শোষণ অংশ (light harvesting part). ২। বিক্রিয়া কেন্দ্র এবং ৩। ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (ETC)। এক অণু ক্লোরোফিল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রোটিন নিকটস্থ ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকে। ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিনয়েডসমূহ আলোক শক্তি শোষণ করে এবং এই শক্তিকে বিক্রিয়া কেন্দ্রে প্রদান করে ও ATP তৈরি করে যা একটি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ।
জীবকোষে রাসায়নিক শক্তির উৎস হিসেবে ATP কাজ করে। এভাবে আলো ও ক্লোরোফিল প্রত্যক্ষভাবে সালোক্সংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন এবং তা নিয়ন্ত্রন করে।