(i): আঁধারের চাঁদ তুমি- জুলুমের বিচার
সাম্যের স্বর্গভূমি- সত্যের প্রচার।
(ii): আজি শিশু কাঁদিছে অনাহারে- মরিছে মানুষ নির্বিচারে
সত্যের পতাকা খায় বসে খোদ পতাকাধারী
অনাগত কাল গেয়েছিল, 'জয় জয় হে মানব।'
"সেদিন গিয়াছে"- বলতে হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসন ব্যবস্থার সময়কে নির্দেশ করা হয়েছে।
হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসনকাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে শাসন ব্যবস্থার সর্বোজ্জ্বল সময়। সেই সময় মানুষের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য ছিল না। রাজা-প্রজায় বিদ্বেষ ছিল না। সমাজে অন্যায়ের অবাধ বিচরণ ছিল না। মানুষ সহজেই নিজের প্রকৃত অধিকার ভোগ করতে পারত। কিন্তু বর্তমান সময় অন্ধকারাচ্ছন্নতা, শ্রেণিবৈষম্য সমাজ আর রাষ্ট্রকে আঁকড়ে ধরেছে। রাজায়-প্রজায় চরম বিদ্বেষ। সাধারণ মানুষ সহজে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আলোচ্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, ন্যায়বান শাসনকার্য, সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সত্য প্রচারের মাহাত্ম্যের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। একজন ন্যায়নিষ্ঠা শাসক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি সত্য প্রচারে ছিলেন নির্ভীক।
উদ্দীপকে একজনের চারিত্রিক জীবনাদর্শের কথা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি জুলুমের বিচার করেন। এছাড়া তিনি সাম্যবাদ ও সত্যের প্রচারে একনিষ্ঠতার ধারক। 'উমর ফারুক' কবিতায়ও হজরত উমর (রা.)-এর চারিত্রিক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক হয়েও তিনি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। নিজ ভৃত্যকেও তিনি সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে নিজ পুত্রকেও কঠোর শাস্তি দিয়েছেন। তিনি সত্যের পথে নির্ভীক একজন দৃঢ়চিত্ত উপাসক ছিলেন। উমর ফারুকের চারিত্রিক মাহাত্ম্যের দিকগুলো উদ্দীপর্কেও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুকের জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন আদর্শবান শাসক, তাই "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'উমর ফারুক' কবিতায় 'একজন ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে হজরত উমরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। একজন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি প্রজাদের দুঃখে ব্যথিত হতেন।
উদ্দীপকে-(ii)-এ অনাহারে শিশু কাঁদছে। নির্বিচারে মানুষদের মারা হচ্ছে। সত্যের পতাকা হয়েছে অবনমিত। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর (রা.)-এর মতো ন্যায়বান, প্রজাহিতৈষী শাসক যদি থাকত তাহলে উদ্দীপকের করুণ চিত্র দেখা যেত না। তাঁর মতো শাসকের অনুপস্থিতিই এরূপ করুণ দশার কারণ।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা, নির্ভীকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তিনি বায়তুল মাল থেকে আটার বস্তা পিঠে করে দুঃখিনী মায়ের ঘরে পৌঁছে দেন। তিনি সত্যের প্রচারে দৃঢ়চিত্তের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মতো মানবিক চরিত্রের শাসক দ্বারা সমাজ পরিচালিত হলে উদ্দীপকের মতো সমাজে কোনো অন্যায়-অবিচার থাকত না। তাই বলা যায়, "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
