(i)
(ii)
(iii)
যেসব আয়ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে জারক ও বিজারকরূপে ক্রিয়া করে না অর্থাৎ বিক্রিয়াকালে যেসব আয়নের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন হয় না তাদের দর্শক আয়ন বলে।
পিঁপড়া বা মৌমাছি কামডালে ক্ষতস্থানে চুন ব্যবহার করা হয়। কারণ পিঁপড়া বা মৌমাছির বিষে ফরমিক এসিড (HCOOH) থাকে যার কারণে যন্ত্রণা হয়। চুন ক্ষারধর্মী পদার্থ হওয়ায় ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা অম্লধর্মী HCOOH কে প্রশমন করে দেয়। ফরে-ব্যথা উপশম হয়।
উদ্দীপকের (i) ও (ii) নং বিক্রিয়া দুটি-
উভয় বিক্রিয়কে পানি বিক্রিয়ক হিসেবে ব্যবহার হলেও বিক্রিয়ার ধরন ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন যৌগ অধঃক্ষেপ হিসেবে পাত্রের তলদেশে জমা হয় তাকে অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি থেকে দেখা যায়, বিক্রিয়াটিতে একটি উৎপাদ অধঃক্ষিপ্ত হয়। অতএব, এটি একটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া। আবার, যে বিক্রিয়ায় কোনো বিক্রিয়কের দুই অংশ পানির বিপরীত আধানবিশিষ্ট দুই অংশের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ গঠন করে তাকে পানি বিশ্লেষণ বলা হয়।
(i) নং বিক্রিয়া হতে দেখা যায়, এর ধনাত্মক প্রান্ত পানির ঋণাত্মক অংশ এবং এর ঋণাত্মক অংশ পানির ধনাত্মক অংশ এর সাথে যুক্ত হয়ে যথাক্রমে ও HCl গঠন করে।
আবার (ii) নং বিক্রিয়ায় আয়নিক যৌগ, যার পানি যুক্ত হয়। তাই বিক্রিয়াটি পানিযোজন বিক্রিয়া।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, (i) নং বিক্রিয়াটি আর্দ্রবিশ্লেষিত ও অধঃক্ষেপণ এবং (ii) নং বিক্রিয়াটি প্রানিযোজন বিক্রিয়া অর্থাৎ বিক্রিয়া দুটির ধরন ভিন্ন।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি-
বিক্রিয়াটি একটি রেডক্স (জারণ-বিজারণ) বিক্রিয়া।
যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান বা স্থানান্তর ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বা জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ বিজারণ এবং ইলেকট্রনের প্রদান জারণ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় এর ইলেকট্রন ত্যাগ করে -এ পরিণত হয়, যা একটি জারণ প্রক্রিয়া।
জারণ :. . . . . . . . . . . . .(i)
আবার, এর Cl ইলেকট্রন গ্রহণ করে -এ পরিণত হয়, যা একটি বিজারণ প্রক্রিয়া।
বিজারণ :. . . . . . . . . . . . . . (ii)
সমীকরণ (i) ও (ii) থেকে পাই,
____________________________________
জারণ-বিজারণ :
সুতরাং (i) নং বিক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
