(i) বিধান রায়ের অবস্থা এতই শোচনীয় যে, ঘরের ভাঙা বেড়াটিও মেরামত করতে পারছে না। ছেলেমেয়েরা জোড়াতালি দেওয়া কাপড় পরে ঘুরে বেড়ায়। লোকজনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা ধার এনে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছে।
(ii) মিনা ও রাজু দুই ভাই-বোন। গ্রামীণ পরিবেশে তারা আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতির মাঝেই তারা খুঁজে পায় পরম সুখ। এমনকি পিতা-মাতার শাসনও তাদের আটকাতে পারে না।
অপুর মা লঙ্কা তক্তার ওপরে রেখে দেয় বলে অপু লঙ্কার নাগাল পায় না।
'ঠাকুরের হাঁড়ি দেখচি শিকেয় উঠেচে'- কথাটি দ্বারা হরিহরের সাংসারিক দুরবস্থার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর দরিদ্র ব্রাহ্মণ। স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে কায়ক্লেশে তার সংসার চলে। গোমস্তার কাজ, পূজা-আচ্চা ইত্যাদি করে বহু কষ্টে দিন যায়। একদিন সে দশঘরা গ্রামে যায় তাগাদার জন্য। সেই গ্রামের এক লোক হরিহরকে ওই গ্রামে বসবাস করার প্রস্তাব করে এবং তার কাছে মন্ত্র নিতে চায়। কিন্তু হরিহর তৎক্ষণাৎ রাজি হয় না। কারণ দরিদ্র হলেও তার আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। তাছাড়া তৎক্ষণাৎ রাজি হলে লোকটি ভাবত সে বুঝি চরম অর্থকষ্টে পড়েছে। মূলত হরিহর তৎক্ষণাৎ রাজি হলে দশঘরার লোকটি তার সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটি ভাবত বলে সে মনে করে।
উদ্দীপক (ⅰ)-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল উপজীব্য প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোন অপু দুর্গার চিরন্তন শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা। এ গল্পের একটি বিশেষ দিক তাদের পরিবারের অভাব-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র্য। সর্বজয়া-হরিহরের সংসার দারিদ্র্যক্লিষ্ট, ঋণ জর্জরিত।
উদ্দীপকের বিধান রায়ের পরিবারেও দারিদ্র্যের দিকটি প্রধান হয়ে উঠেছে। তার ঘরবাড়ি ভাঙা, ছেলেমেয়ে জোড়াতালি দেওয়া কাপড় পরে। লোকের কাছ থেকে কোনোমতে ধারদেনা করে সংসার চলছে। আলোচ্য গল্পেও হরিহর রায়ের বাড়ি ভাঙা, অনেক দিন ধরে মেরামত করা হয়নি। অপুর কাপড় তালি দেওয়া, দুর্গার কাপড় নোংরা। সর্বজয়া সেজ ঠাকরুন ও রাধা বোষ্টমের বউয়ের কাছ থেকে ধার করে সংসার চালাচ্ছে। সংসারের অভাব ও দারিদ্র্যের দিক থেকে উদ্দীপক (i) সঙ্গে আলোচ্য গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের (ii) অংশে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে বর্ণিত অপু-দুর্গার চিরন্তন শৈশবের দিকটি ফুটে ওঠায় “উদ্দীপকের (ii) অংশে প্রতিফলিত দিকটিই 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের প্রধান বিষয়”- উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের প্রধান উপজীব্য প্রকৃতিঘনিষ্ঠ শিশু অপু-দুর্গার চিরন্তন শৈশবের দুরন্তপনা। তারা হতদরিদ্র পরিবারের শিশু। তবে এই দারিদ্র্য তাদের আনন্দঘন শৈশবে প্রভাব ফেলেনি।
উদ্দীপকের (ii) অংশে প্রকাশ পেয়েছে মিনা ও রাজুর শৈশবের আনন্দঘন দিন। গ্রামীণ পরিবেশে তারা আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, প্রকৃতির মাঝেই খুঁজে পায় প্রকৃত সুখ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পেও অপু-দুর্গার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ গ্রামীণ জীবনের আনন্দঘন শৈশবের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রকৃতির নানা উপাদান, বনজ ফলমূল কুড়িয়ে খাওয়ার মাঝেই তারা প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছে, যা উদ্দীপক (ii)-এর সদৃশ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের লেখক দারিদ্র্যের মাঝে বেড়ে ওঠা অপু-দুর্গার শৈশবের চিরন্তন রূপটি দেখিয়েছেন। দারিদ্র্য তাদের জীবনের আনন্দে বাধা হতে পারেনি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসনও প্রভাব ফেলেনি। উদ্দীপকের মিনা রাজুর মাঝেও শৈশবের চিরন্তন আনন্দঘন ও প্রকৃতিঘনিষ্ঠ রূপটি দৃশ্যমান। এটিই 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের বিষয় হওয়ায় আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।
