(i)
(ii)
তাপ প্রয়োগের দ্বারা একটি তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত অবস্থায় থাকে তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। KCI তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য। কারণ জলীয় দ্রবণে KCI সম্পূর্ণরূপে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
জানা আছে, যে বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে জারণ বিক্রিয়া বলা হয়। অপরদিকে, যে বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
বিক্রিয়া হতে দেখা যায় যে, এর আয়ন দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে -এ পরিণত হয়, যা একটি জারণ বিক্রিয়া। যেমন,
জারণ অর্ধবিক্রিয়া :ত্যাগ
আবার, অণু. আয়ন কর্তৃক ত্যাগকৃত ইলেকট্রন গ্রহণ করে -এ পরিণত হয়, যা একটি বিজারণ বিক্রিয়া। যেমন,
বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া :গ্রহণ]
দেখা যাচ্ছে, জারণ প্রক্রিয়ায় ত্যাগকৃত ইলেকট্রন বিজারণ-প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয়। অর্থাৎ, জারণ প্রক্রিয়া সংঘটিত না লে বিজারণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হবে না।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ যুগপৎ সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটিকে নিম্নরূপে লিখা যায়-
উপরিউক্ত বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া এবং বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মোল সংখ্যা ভিন্ন। কাজেই বিক্রিয়াটিতে তাপ ও চাপ উভয়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
তাপমাত্রার প্রভাব: প্রদত্ত বিক্রিয়ায় এর মান ঋণাত্মক হওয়ায় বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী, অর্থাৎ এক্ষেত্রে তাপ নির্গত হয়। সুতরাং তাপমাত্রা বাড়ালে লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী, সাম্যাবস্থা ডান থেকে বাম দিকে সরে যাবে। অর্থাৎ এর উৎপাদন হ্রাস পাবে। আবার, তাপমাত্রা কমালে সাম্যাবস্থা বাম থেকে ডান দিকে অগ্রসর হবে অর্থাৎ -এর উৎপাদন বেড়ে যাবে।
চাপের প্রভাব : বিক্রিয়াটিতে বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা (2 + 1=3) অপেক্ষা উৎপাদের মোট মোল সংখ্যা (2) কম। সুতরাং, চাপ বাড়ালে লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী, সাম্যাবস্থা বাম থেকে ডান দিকে সরে যাবে অর্থাৎ এর উৎপাদন বাড়বে। আবার, চাপ কমালে সাম্যাবস্থা ডান থেকে বাম দিকে সরে যাবে, অর্থাৎ এর উৎপাদন হ্রাস পাবে ।
