(i) কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই,
আজ আর নেই!
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই,
আজ আর নেই!
(ii) ঋতু বৈচিত্র্যের সুন্দর জন্মভূমি আমার
বিচিত্র রূপ তার; শস্য-শ্যামল খেত আমার
প্রিয় জন্মভূমি মা, তোমায় ভালোবাসি বেশুমার।
'নিশার স্বপন' বলতে কবি স্বপ্নের ঘোরে কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পাওয়াকে বুঝিয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর শৈশব-কৈশোরের সঙ্গে মিশে থাকা কপোতাক্ষ নদের তীরে বেড়ে ওঠার স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। কপোতাক্ষ নদ কবির জন্মভূমি বাংলাদেশের সাগরদাঁড়ি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলধারা। এ নদকে কেন্দ্র করে শৈশবের নানা স্মৃতি কবির মনে ভিড় করে। কপোতাক্ষের কথা সব সময় তাঁর মনে পড়ে। প্রবাসে রূঢ় বাস্তবতায় কপোতাক্ষের স্মৃতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে। রাতে মানুষ যেমন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে, মায়ামন্ত্র ধ্বনিতে আবেগে আপ্লুত হয়, কবিও তেমনই কপোতাক্ষকে নিয়ে বিভোর হন। স্বপ্নের মতো কপোতাক্ষের সব সুখ-স্মৃতি তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তিনি অবচেতন মনে যেন কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান।
উদ্দীপক (i)-এর বক্তব্যে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি দূর প্রবাসে গিয়ে মাতৃভূমি ও শৈশবের প্রিয় কপোতাক্ষ নদের কথা মনে করে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। কবি শৈশবে কপোতাক্ষের তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশে হেসে-খেলে বেড়ে উঠেছেন। এ নদের জলের ধারা মায়ের স্নেহ-মমতা মাখানো। এ নদের জল কবির কাছে মাতৃদুগ্ধের মতো। তাই এই নদের কথা তিনি গভীর আবেগে স্মরণ করেন। এই নদের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।
উদ্দীপক (i)-এ লেখক তাঁর সোনালি অতীতের কথা স্মরণ করেছেন। সবাই মিলে কফি হাউসে যে আড্ডা দিতেন সেই সোনালি সময়, সোনালি বিকেলের কথা ভেবে তিনি কাতর হন। এর মাধ্যমে তাঁর সেই দিনগুলো ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির গভীর স্বদেশানুরাগ ও কপোতাক্ষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পাওয়ায় স্মৃতিকাতরতার দিকটিই উদ্দীপক (i)-এ ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপক (ii) ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল সুর একই"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি কপোতাক্ষ নদের জলে যে তৃপ্তি পান, তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর জলে পান না। এ নদের তীরে কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। প্রবাসজীবনে তাই তিনি এ নদের কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। প্রিয় স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের ফলেই কবি তাঁর শৈশবের নদকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন।
উদ্দীপক (ii)-এ বাংলার সবুজ প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের ধারায় বৈচিত্র্যের কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতির প্রতি কবির এ অনুরাগ মূলত স্বদেশানুরাগ। উদ্দীপকের এ দিকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশানুরাগের সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তার জন্মভূমিকে 'মা' বলে সম্বোধন করেছেন। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদের জলকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ নদের তীরে কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। প্রবাসজীবনে তাই তিনি এ নদের কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জন্মভূমিতে বয়ে চলা এ নদ এবং এ নদের তীরবর্তী ছায়া সুনিবিড় গ্রামকে স্মরণ করেছেন। এতে স্বদেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকেও এ প্রতিফলন ঘটেছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল সুরও স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা।
