(i) মার্বেল পাথর
(ii)
সমযোজী যৌগের অণুতে বন্ধনে আবদ্ধ পরমাণুগুলোর তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্যের কারণে অণুতে আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক চার্জবিশিষ্ট প্রান্তের সৃষ্টি হয়; এই ঘটনাকে বলা হয় পোলারিটি।
যে সমযোজী যৌগে পোলারিটির সৃষ্টি হয় তাকে পোলার যৌগ বলে। ফ্লোরিনের তড়িৎঋণাত্মকতা হাইড্রোজেন অপেক্ষা বেশি। তাই H-F এ শেয়ারকৃত ইলেকট্রনযুগল F পরমাণুর দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। ফলে F পরমাণুতে আংশিক ঋণাত্মক প্রাপ্ত এবং H পরমাণুতে আংশিক ধনাত্মক প্রান্তের সৃষ্টি হয়। এ কারণে HF পোলার যৌগ।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি পূর্ণ করে পাই-
∴ A গ্যাসটি । যৌগটি অম্লীয়। নিচে উত্তরের পক্ষে ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো-
যে সকল পদার্থ ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে বা পানির সাথে বিক্রিয়া করে অম্ল তৈরি করে তাদেরকে অল্লীয় পদার্থ বলে । পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড এবং ক্ষারের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। সুতরাং অল্লীয়।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়ায়-
সুতরাং P হলো কপার ধাতু এবং B যৌগটি (গ থেকে)। নিচে এদের বিদ্যুৎ পরিবাহিতার তুলনা করা হলো-
ও Cu এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতার তুলনা: আয়নিক যৌগ হওয়ায় কঠিন অবস্থায় এর ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিসে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে বলে এরা বিদ্যুৎ অপরিবাহী। কিন্তু জলীয় দ্রবণ বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিস থেকে মুক্ত হয়ে ইতঃস্তত পরিভ্রমণ করে।
এর দ্রবণে দুটি ইলেকট্রোড প্রবেশ করালে ঋণাত্মক আয়ন ( ) অ্যানোডের দিকে এবং ধনাত্মক আয়ন ( ) ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয়।
ক্যাথোডে পৌঁছার পর তা থেকে 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে চার্জ নিরপেক্ষ ধাতুতে পরিণত হয়।
বিজারণ প্রক্রিয়া:
অপরদিকে, অ্যানোডে পৌঁছে 1টি ইলেকট্রন দান করে প্রথমে চার্জ নিরপেক্ষ হয় ও পরে নিজেদের মধ্যে যুক্ত হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়।
জারণ প্রক্রিয়া:
এভাবে যৌগটির মধ্যে অ্যানোডে জারণ এবং ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন ঘটে।
অপরদিকে, Cu একটি ধাতু। এ কারণে এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী। Cu ধাতব খণ্ডে মুক্তভাবে সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনগুলো বিদ্যুৎ পরিবহনের কাজ করে। একটি Cu খণ্ডের দুই প্রান্তের সাথে ব্যাটারির ধনাত্মক (+) ও ঋণাত্মক (-) প্রান্ত সংযুক্ত করলে ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ ধনাত্মক প্রান্ত থেকে ঋণাত্মক প্রান্তের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যৌগে তথা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহীতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে ও নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়; এক্ষেত্রে যৌগ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। কিন্তু Cu ধাতুতে ইলেকট্রন পরিবহনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে পরিবাহীতে (Cu ধাতু) সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
