(i)
(ii)
(iii)
যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে অথবা যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে, তাকে ঐ মৌলের জারণ সংখ্যা বলে।
বই পিঁপড়ার কামড়ে ক্ষতস্থানে চুন লাগানো হয়। কারণ পিঁপড়ার কামড়ের ক্ষতস্থানে পিঁপড়ার শরীর থেকে যে বিষ প্রবেশ করে তাতে অম্লীয় উপাদান থাকে। মানুষ পিঁপড়ার কামড়ের জ্বালাযন্ত্রণা নিবারণ করার জন্য ক্ষতস্থানে চুন ব্যবহার করে। কারণ, চুন ক্ষারকধর্মী পদার্থ। এটা অম্লীয় উপাদানের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে ব্যথা প্রশমিত করে। তাই পিঁপড়া কামড়ালে চুন ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি-
বিক্রিয়াটি প্রশমন একটি বিক্রিয়া। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিক্রিয়াটির ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
(i) পরিপাকে : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যাভাসের কারণে অনেকের পাকস্থলীতে অতিরিক্ত HCl তৈরি হয়। এ অতিরিক্ত HCl কে প্রশমিত করার জন্য রোগীকে ডাক্তার এন্টাসিড ওষুধ খেতে বলেন। এন্টাসিড ওষুধে থাকে, যা পাকস্থলি থেকে নিঃসৃত অতিরিক্ত HCl কে প্রশমিত করে রোগীকে এসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়।
(ii) দাঁতের যত্নে: খাওয়ার পর আমাদের মুখে এসিড তৈরি হয়। তখন ক্ষার জাতীয় পদার্থের পেস্ট দ্বারা টুথব্রাশ করলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসিডজনিত কারণে দাঁতের ক্ষয়রোধ হয়।
(iii) কৃষি ক্ষেত্রে : গাছ যখন মাটি থেকে বিভিন্ন ধাতব আয়ন যেমন- ইত্যাদি শোষণ করে তখন মাটি 'অল্লীয় হয়ে যায়। ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে চুন ব্যবহার করা হয়, যা মাটির অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে (i) নং বিক্রিয়া তথা প্রশমন বিক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকের (ii) ও (iii) নং বিক্রিয়া পূর্ণ করে পাই-
(ii)
(iii)
সকল সংশ্লেষণ বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়া কিন্তু সকল সংযোজন বিক্রিয়া সংশ্লেষণ বিক্রিয়া নয় প্রদত্ত বিক্রিয়াদ্বয়ের আলোকে নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জানা আছে, দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ার নাম সংযোজন বিক্রিয়া। যেমন, উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াতে চুন ( CaO ) ও বিক্রিয়কদ্বয় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে চুনাপাথর উৎপন্ন করেছে। আবার (iii) নং বিক্রিয়াতে, ক্যালসিয়াম ধাতু (Ca) ফ্লোরিনের ( ) সাথে যুক্ত হয়ে গঠন করেছে। বিক্রিয়া দুটি উভয়ই সংযোজন বিক্রিয়া।
পক্ষান্তরে সংযোজন বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন হলে তাকে সংশ্লেষণ বিক্রিয়া বলে। যেমন
(iii) নং বিক্রিয়াটিতে- Ca ও F (উভয়েই মৌল) মৌলদ্বয় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ উৎপন্ন হয়েছে। কিন্তু (ii) নং বিক্রিয়া সংশ্লেষণ বিক্রিয়া নয়। কারণ বিক্রিয়ক CaO ও উভয়েই যৌগ।
সুতরাং বলা যায়, সকল সংশ্লেষণ বিক্রিয়াই সংযোজন বিক্রিয়া কিন্তু সকল সংয়োজন বিক্রিয়া সংশ্লেষণ বিক্রিয়া নয়।
