i. রয়েছ হৃদয়ে তুমি, যায় না তো ভোলা
স্বপ্নে ও জাগরণে দাও শুধু দোলা!
মধুময় শৈশব… ঘুড়ি ওড়া দিন…
আজও আমায় করে ভাবনারঙিন
কত স্মৃতি অনুভব তোমাকেই ঘিরে
রেখেছি তোমায় গ্রাম মনের গভীরে।
ii. তোমাকেই ভালোবাসি ওগো প্রিয় গ্রাম
নিসর্গপাতাজুড়ে লিখিয়া দিলাম
তুমি যদি আমাকেও বাসো কোনো দিন
ধন্য হবে জীবন… সুখ অমলিন।
“দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে” বলতে কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারাকে বুঝিয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারায় সিক্ত হওয়ার কথা, তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটানোর স্মৃতিচারণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে তাঁর অনেক আনন্দ-বেদনার স্মৃতি রয়েছে। মায়ের দুধ পান করে সন্তান যেমন পুষ্ট হয়, ঠিক তেমনই কপোতাক্ষ নদের জলধারা কবির হৃদয়কে তৃপ্ত করেছে। এ কারণেই তিনি কপোতাক্ষ নদকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপক i 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির শৈশবের স্মৃতিকাতরতার দিকটিকে নির্দেশ করে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। শৈশবে কবি এ নদের তীরের সাগরদাঁড়ি গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হয়েছেন। কবি ফ্রান্সে বসে শৈশবের সেই স্মৃতি স্মরণ করে কাতর হয়েছেন।
উদ্দীপক i-এ কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে গ্রামীণ পরিবেশে কাটানো শৈশবের স্মৃতিচারণ। কবি স্বপ্নে ও জাগরণে শৈশবের ঘুড়ি ওড়ানো সুখময় দিন স্মরণ করে কাতর হয়েছেন। কিছুতেই কবি তাঁর জন্মভূমিকে ভুলতে পারছেন না। বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটি নির্দেশ করে।
স্বদেশপ্রেমের সহজাত প্রবৃত্তি ধরা পড়ায় বলা যায় যে, "উদ্দীপক ii যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব - করে।" মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য স্বদেশপ্রেমের সহজাত প্রবৃত্তি। কবি সুদূর ফ্রান্সে বসেও তাঁর শৈশবের এই নদকে বন্ধুভাবে স্মরণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদের কাছে তাঁর মিনতি- কবি যেমন তাকে বন্ধুভাবে স্মরণ করেন, তেমনই কপোতাক্ষ নদও যেন কবির কথা বঙ্গবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়।
উদ্দীপক ii-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মতো স্বদেশপ্রেমের সহজাত প্রবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছেন। কবি যেমন নিসর্গপাতাজুড়ে গ্রামকে স্মরণ করেন, গ্রামও যদি কবির কথা তেমনভাবে স্মরণ করে তাহলেই তাঁর জীবন ধন্য হবে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কপোতাক্ষ নদকে কবি বন্ধুভাবে স্মরণ করেছেন। সুদূর প্রবাসজীবনেও কবি কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কবি এ নদের কাছে মিনতি জানিয়েছেন যে, এ নদ যেন বন্ধুত্বের খাতিরে কবির স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়। উদ্দীপকের কবিও স্বদেশের প্রেমে আকুল হয়েছেন। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
