(i) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটা ডিগ্রি লাভ করে চাকরি প্রাপ্তিই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। মানবিক বৃত্তিগুলোর উন্মেষ ঘটানোই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
(ii) সব ধরনের জ্ঞানের একত্রে সমাবেশ ঘটিয়ে জ্ঞানচর্চার প্রসারে ধারাবাহিক ও স্থায়ী ভূমিকা পালনের জন্য লাইব্রেরির সৃষ্টি। এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁর প্রয়োজন ও আগ্রহ অনুযায়ী জ্ঞানচর্চা করতে পারেন।
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম বীরবল।
প্রমথ চৌধুরী মনে করেন, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না- এ বিশ্বাস থেকেই তিনি বলেছেন, সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত। লেখকের মতে, বিদ্যা আর শিক্ষা এক কথা নয়। পৃথিবীতে বস্তুগত ও ভাবগত সকল বিষয়ই আদান-প্রদান হয়। কিন্তু শিক্ষা এমন এক জিনিস যার বিনিময় হয় না। একজন শিক্ষক বড়োজোর শিষ্যের আত্মাকে উদ্বেধিত করে দিতে পারেন; কিন্তু শিক্ষিত করে তুলতে পারেন না। এটা নিজস্ব চর্চা ও অভ্যাসের মাধ্যমে আয়ত্ত করে নিতে হয়। যথার্থ শিক্ষা লাভ করতে হবে নিজেকেই। একথা বুঝাতেই লেখক আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।
উদ্দীপক (i)-এ ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য যে জ্ঞানার্জন করা এবং সেজন্যেই বই পড়া প্রয়োজন এ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বর্ণিত, মনের প্রসারতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া দরকার। কারণ সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। ভালো মানের বই পড়েই মানবিক বৃত্তিগুলোর উন্মেষ ঘটাতে হবে। কিন্তু তিনি আবার বলেছেন, বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও আমাদের বাঙালির ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রযোজ্য নয়। কেননা আমাদের এই রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে জীবন-ধারণ করাই যেখানে কঠিন, সেখানে বই পড়ে সুন্দর জীবনের আশা করা নিরর্থক।
উদ্দীপক (i)-এ দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। এই শিক্ষা তার মনের চেতনা খুলে দিতে যেন দায়বদ্ধ। তবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিক্ষায় যারা কেবল পাশ করার জন্য পড়ে তারা মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। কেবল পাশ করা বিদ্যায় আত্মার অপমৃত্যু ঘটে এবং এই মানুষ তার মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে ফেলে। তার মধ্যে মানবিকতার বিকাশ ঘটে না। তার ভেতরে জাগ্রত হয় অর্থমোহ। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি লাভ করে চাকরি প্রাপ্তিই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়; মানবিক বৃত্তিগুলোর উন্মেষ ঘটানোই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐ শিক্ষার্থীর। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ এবং (i)-নং উদ্দীপকে তারই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপক (ii)-এ 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবের সম্পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
একজন আদর্শ গুরু তার শিষ্যকে বিদ্যা অর্জনের পথ দেখিয়ে দেন। শিষ্যের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলেন। তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে তোলেন। সেই শক্তির বলে শিষ্য নিজের মন নিজে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপক (ii)-এ জ্ঞানচর্চার জন্য লাইব্রেরির ভূমিকা ও গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। কেননা লাইব্রেরি হচ্ছে নানা বিষয়ের জ্ঞানের ভাণ্ডার। এখানে জ্ঞানের আধার অসংখ্য বই সংরক্ষিত থাকে। জ্ঞানচর্চার প্রসারে ধারাবাহিক ও স্থায়ী ভূমিকা পালনের জন্য লাইব্রেরির সৃষ্টি। পাঠক এখান থেকে ইচ্ছামতো বই পড়ে জ্ঞানার্জন করতে পারে। এটি ব্যবহার করে জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তি তার প্রয়োজন ও আগ্রহ অনুযায়ী জ্ঞানচর্চা করতে পারে। বই পড়া ছাড়া যেমন সাহিত্যচর্চা সম্ভব নয় তেমনি বই পড়ে জ্ঞানার্জনের জন্য লাইব্রেরির বিকল্প নেই।
'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবই উদ্দীপক (ii)-এ প্রতিফলিত হয়েছে। লেখকের মতে, লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কিছু কম নয়। একটি লাইব্রেরি মনমানসিকতার উন্নতি ও মনোজগতের পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র। লাইব্রেরি বই পড়ার এবং মানবিক বিকাশের মূল্যবান উৎস। মনকে সতেজ, সুস্থ ও সবল রাখার জন্য। আত্মার তুষ্টির জন্য বই পড়া দরকার। ভালো মানের বই মানুষকে উদার হতে শিক্ষা দেয়, এই বই পড়ার জন্য তাকে লাইব্রেরিতে যেতে হবে। উদ্দীপক (ii)-এ সে ব্যাপারেই গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুতরাং বই পড়ে জ্ঞানার্জন করা, লাইব্রেরি ব্যবহার করা, লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলা ইত্যাদি যুক্তিতে আমি মনে করি উদ্দীপক (ii)-এ আলোচ্য প্রবন্ধের লেখকের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
