(i) সমুদ্রের জাহাজ যেমন নাবিকের নির্দেশনায় চলতে থাকে তেমনি দেশ ও সমাজের গতিপথ ঠিক করে দিতে পারেন শিক্ষক। তিনি মানুষের মনের পরিচর্যা করেন, মনের ভেতর শৃঙ্খলা তৈরি করেন। তিনি দেশপ্রেম ও বিচারবুদ্ধির উৎস।
(ii) মহারাজগঞ্জ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরিতে বই পড়ে আসছে। লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক হঠাৎ করেই অসুস্থ থাকায় শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তে পারছে না। তারা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষকের কাছে লাইব্রেরিতে পুনরায় বই পাঠের সুযোগের জন্য অনুরোধ করে। তিনি তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে দ্রুত লাইব্রেরিতে বই পাঠের ব্যবস্থা করেন। ফলে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সুবাতাস বয়ে যায়।
বিশিষ্ট অভিজাত সভ্যতা হচ্ছে- ভারতীয় সভ্যতা।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন, কারণ লাইব্রেরিতে লোকে স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতি উলটো। সেখানে ছেলেদের জোর করে বিদ্যে গেলানো হয়। ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে - কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে লাইব্রেরিতে প্রত্যেকে নিজ নিজ শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।
উদ্দীপক (i)-এ 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকার দিকটিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক ছাত্রকে জ্ঞান দান করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন যিনি যথার্থ গুরু, তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদবোধিত এবং তার অন্তর্নিহিত সকল শক্তিকে মুক্ত ও ব্যক্ত করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে তিনি শুধু শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করেছেন। তিনি মনে করেন এক্ষেত্রে ছাত্রের দায়িত্বও অনেক, কারণ গুরু উত্তরসাধক মাত্র।
উদ্দীপক (i)-এ একজন শিক্ষকের ভূমিকা নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে শিক্ষককে সমুদ্রের জাহাজের নাবিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যিনি দেশ ও সমাজের গতিপথ ঠিক করে দেওয়ার ক্ষেত্রে নাবিকের মতো দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। তিনি মানুষের মনের পরিচর্যা তথা মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মনের শৃঙ্খলা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সেই সঙ্গে মানুষকে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পারেন। এই দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকার দিকটিকে ইঙ্গিত করেছে। এ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষা দান করায় নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন, তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন, মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন, তার জ্ঞানপিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন। একজন যথার্থ গুরু বা শিক্ষক শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত এবং আন্তর্নিহিত সব প্রচ্ছন্ন শক্তিকে অবমুক্ত করতে পারেন।
"উদ্দীপক (ii)-এ শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে বই পাঠের - অনুরোধই হলো 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের অন্যতম দাবি।"-মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ আলোচ্য প্রবন্ধের লেখক এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ মতো বই পড়ে জ্ঞানার্জন করতে পারবে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি উৎসাহ না দিয়ে শুধু পাশ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ তারা যত বই পড়বে, তত বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। এজন্য তিনি বেশি বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিয়েছেন। কেননা এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি বই হাতের নাগালে পাবে আর নিজেদের ইচ্ছামতো বই পড়ে তাদের জীবনকে আলোকিত ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারবে।
উদ্দীপক (ii)-এ শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে বই পাঠের অনুরোধের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের অনুস্থতার কারণে যে সমস্যা তৈরি হয় তা নিরসনের জন্য বইপড়ুয়ারা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে লাইব্রেরিতে বইপড়ার ব্যবস্থা করেন। এখানে লাইব্রেরিতে বই পড়া বা পাঠের জন্য যে মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে তা 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মানসিকতার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। লেখকও যথার্থ জ্ঞান অর্জন ও প্রকৃত শিক্ষার জন্য লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার কথা বলেছেন। তিনি বই পড়ে যথার্থ শিক্ষিত হওয়ার জন্য লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন। কারণ এখানে লোকে স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে তার সঙ্গে উদ্দীপক (ii)-এর বিষয়বস্তু সাদৃশ্যপূর্ণ। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের জোর করে বিদ্যে গেলানো হয়। আর লাইব্রেরিতে প্রত্যেকে নিজ নিজ শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে, জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক এটাই প্রত্যাশা করেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
