| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইবনে বতুতা তাঁর…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – গন্তব্য কাবুল, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ইবনে বতুতা তাঁর সময়ে সর্বাধিক ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের একজন। ১৩২৫ সালে মরক্কো থেকে ১৯ বছর বয়সে তিনি পবিত্র হজের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তিনি স্থলপথে মক্কা যান। তিনি উত্তর আফ্রিকার তটরেখা ধরে আবদ-আল ওয়াদিদ এবং হাফাসিদ-এর রাজ্য হয়ে যান। ১৩২৬ সালের বসন্তে প্রায় ৩৫০০ কি.মি. ভ্রমণ শেষে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে আসেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৬
ফিরিঙ্গি হলো ফরাসি বা ইউরোপিয়ান।
স্পষ্টভাষী ও সতর্কতামূলক উপদেশ দেওয়ার কারণেই সর্দারজিকে লেখকের ভালো লাগে।
লেখকের দৃষ্টিতে সর্দারাজি একজন সহজ-সরল মানুষ কিন্তু বিচক্ষণ। তিনি তার কর্মজীবনে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি লেখককে তার জীবনে অর্জিত কিছু অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। লেখক সর্দারজির কাছে অপরিচিত ব্যক্তি হলেও তিনি সাবলীল ভাষায় কথা বলেন। তার ভাবগম্ভীর ব্যবহার, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচক্ষণতা লেখকের মনে গভীর অনুরাগের সৃষ্টি করে। তাই সর্দারজিকে লেখকের ভালো লাগে।
উদ্দীপকে 'গন্তব্য কাবুল' রচনার লেখকের ভ্রমণপিয়াসী বৈশিষ্ট্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক তাঁর অসাধারণ ভ্রমণসাহিত্যের সঙ্গে আমাদের পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। হাওড়া স্টেশন থেকে কাবুলের উদ্দেশ্যে শুরু করা সেই যাত্রায় লেখক অসাধারণ এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। হাওড়া থেকে পেশাওয়ার, পেশাওয়ার থেকে একশ মাইল পাড়ি দিয়ে জালালাবাদ, সেখান থেকে একশ মাইল দূরত্বে কাবুল। এই বিচিত্র ভ্রমণের রসঘন বর্ণনায় সিক্ত আলোচ্য রচনাটি।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে ইবনে বতুতার দীর্ঘ ভ্রমণের ইতিবৃত্ত। মরক্কোর এই পরিব্রাজক মধ্যযুগের সর্বাধিক ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের একজন। ১৩২৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর পরিব্রাজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। ১৩২৬ সালে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেন। 'গন্তব্য কাবুল' রচনায়ও লেখক তাঁর কাবুল যাত্রার বৈচিত্র্যপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই ভ্রমণে তিনি হাওড়া স্টেশন থেকে পেশাওয়ার, জালালাবাদ, কাবুল প্রভৃতি স্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। এসব দিক তাঁর ভ্রমণপিয়াসী মানসিকতাকেই নির্দেশ করে।
ভ্রমণপিপাসু হওয়ার কারণে "লেখক যেন ইবনে বতুতার আধুনিক সংস্করণ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখকের দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। সেই যাত্রায় লেখকের পার্শ্বযাত্রীদের সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য দিক থেকে তাঁর উচ্চ রসবোধ সহযোগে তুলে ধরেছেন। হাওড়া স্টেশন, থেকে পেশাওয়ার, পেশাওয়ার থেকে একশ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জালালাবাদ, জালালাবাদ থেকে আবার একশ মাইল পাড়ি দিয়ে কাবুল এই দীর্ঘ ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে লেখকের বর্ণনায়।
উদ্দীপকে বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতার দীর্ঘ ভ্রমণের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি মরক্কো থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১৩২৬ সালে তিনি প্রায় দীর্ঘ ৩,৫০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে পৌঁছান আলেকজান্দ্রিয়ায়। অনুরূপ ভ্রমণপিপাসু মনোভাব 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখকের মধ্যেও ফুটে উঠেছে। কেননা তিনিও কাবুলের বিচিত্র সংস্কৃতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য দীর্ঘপথ ভ্রমণ করেছেন।
মধ্যযুগের পরিমণ্ডলে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতেন বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা। 'গন্তব্য কাবুল' রচনার লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীও একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। ভিন্ন দেশের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আকর্ষণ। তাঁর লেখায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মধ্যযুগের ইবনে বতুতার ভ্রমণপ্রিয় মানসিকতা যেন পেয়ে বসেছিল লেখককে। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।