| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইবসেনের ‘ডলস হাউস’…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ইবসেনের ‘ডলস হাউস’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা। সে গৃহে প্রতিনিয়ত স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নোরা স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় সশব্দে দরোজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করেছিল। এই শব্দেই যেন ইউরোপে নারীর জাগরণ শুরু হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ বাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ"- কথাটি দ্বারা মহব্বতনগর গ্রামবাসী মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই সহজ, সরল এবং মাজার ও মজিদকে ভয় পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা স্বভাবে, ধর্মভীরু, স্বামীভক্ত, কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং সহজ-সরল। রহিমার এই ভীতিবিহ্বল স্বভাব মজিদের কর্মকাণ্ডের অনুকূল। রহিমা নিজে মাজার সম্পর্কে যেমন বিশ্বাস করে; তেমনই সে অন্যকেও বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করে। রহিমার মতো মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা সহজ-সরল, ধর্মভীরু। ফলে তারাও রহিমার মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের নোরা 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য না দিয়ে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়। তবে কোনো কোনো নারী প্রবল সাহস নিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকের নোরা প্রতিনিয়ত স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য না করে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার মধ্যেও উদ্দীপকের নোরা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা স্বামীর দ্বারা নানাভাবে অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মজিদ তাকে নানাভাবে হেনস্তা করতে থাকলে মজিদের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদ করেছে। যে মজিদকে গ্রামের সকলে ভয় করে সেই মজিদের মুখে সে থুথু দিয়েছে, যা উদ্দীপকের নোরার সাহসী চেতনাকেই ধারণ করে। এভাবে উদ্দীপকের নোরা 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মর্মকথা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের অত্যাচার থেকে নারীমুক্তির প্রত্যাশা অভিন্ন।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
নারীদেরকে অবলা ভেবে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালালেও নারীরা এখন আর এগুলো মুখ বুজে সহ্য করে না। অসীম সাহস ও শক্তি নিয়ে নারীরা এসব অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, যা নারীমুক্তির ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক।
উদ্দীপকের নোরা তার স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নোরা স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সশব্দে দরোজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করেছিল। এই শব্দেই যেন ইউরোপে নারীর জাগরণ শুরু হয়। এখানে স্পষ্টতই অন্যায়-অত্যাচার থেকে নারীমুক্তির প্রত্যাশাই ব্যক্ত করা হয়েছে যা 'লালসালু' উপন্যাসেও জমিলা ও রহিমার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের জমিলা বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ স্বামী মজিদকে মেনে নিলেও তার অন্যায়, অত্যাচার ও দুর্ব্যবহারকে মেনে নেয়নি। মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার কণ্ঠেও মজিদের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে তাকে নানাভাবে অত্যাচার করে। জোর-জবরদস্তি করে তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। প্রতিবাদে জমিলা এক সময় রাগে তার মুখে থুথু ছিটায়। স্বাধীনমতো ঘর থেকে বের হয়ে যায়। মজিদ তাকে জোর করে মাজারের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখলে প্রথম স্ত্রী রহিমাও প্রতিবাদ করে জমিলাকে ঘরে আনতে বলে। এখানে জমিলা ও রহিমার মধ্যে নারীমুক্তির যে প্রত্যাশা দেখা যায় তা যেন উদ্দীপকের চেতনাকেই ধারণ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।