| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইচ্ছা পূরণের জন্য…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ইচ্ছা পূরণের জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে। যেমনটি করেছিলেন সকিনা বেগম। বিশ বছরের বিবাহিত জীবনে যখন কোনো সন্তানের মা হতে পারেননি, তখন একদিন স্বামীর কাছে তার ইচ্ছার কথা বলেন—তিনি একটি সন্তান দত্তক নিতে চান। তার স্বামী আফাজ আলী স্ত্রী হিসেবে তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। সন্তান লাভের আশায় আফাজ আলী তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হন এবং একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নেন। এভাবে তিনি স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করে তার মর্যাদা দান করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম: Tree Without Roots
শিলাবৃষ্টির পর মজিদসহ মহব্বতনগরবাসী সম্পর্কে বলা হয়েছে "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ”।
মহব্বতনগরে শিলাবৃষ্টিতে ধানক্ষেত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেই ধানক্ষেত দেখে সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের দৃষ্টিতে কোনো ভাব বা উদ্দেশ্য ছিল না। মজিদ এই অবস্থা দেখে সকলকে খোদার ওপর বিশ্বাস রাখতে বলে। তখন সকলের দৃষ্টি দেখে মনে হয় যেন তাদের চোখের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।
উদ্দীপকের সকিনা বেগমের ভাবনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের সকিনা বেগম একজন আধুনিক নারী। বিশ বছরের বিবাহিত জীবনে যখন কোনো সন্তানের মা হতে পারেননি, তখন একদিন স্বামীর কাছে সন্তান দত্তক নেয়ার ইচ্ছার কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি। ফলে তার আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। এবং তার ইচ্ছার মূল্য দিয়ে স্বামী আফাজ আলী তার প্রস্তাবে রাজি হন।
অপরদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা মজিদের প্রথম স্ত্রী। সে অত্যন্ত সহজ, সরল ও ধর্মভীরু নারী। রহিমা ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ। তার নরম কোমল শান্ত রূপের পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মবিশ্বাস এবং মাজার বিশ্বাস। মাজারের প্রতিনিধি হিসেবে স্বামী মজিদের প্রতি তার অন্ধ আনুগত্য ও ভক্তি। স্বামীর সমস্ত আদেশ সে নত শিরে মেনে চলে। কিন্তু তার সন্তান না থাকায় সে নিজেকে অসুখী মনে করে। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তার ভিতরে কাজ করে না। সে স্বামী মজিদের সব কথা যেন চলে । নিজের ইচ্ছার কোনো মূল্য সে পায় না।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সকিনা বেগমের ভাবনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার ভাবনার যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের আফাজ আলী যেভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন মজিদ সেভাবে পারেনি।" - উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা মজিদের প্রথম স্ত্রী। স্বামীর সমস্ত আদেশ সে নত শিরে মেনে চলে। কিন্তু তার সন্তান না থাকায় সে নিজেকে অসুখী মনে করে। এতে স্বামী মজিদও অখুশি। মজিদ দ্বিতীয় বিয়ে করে সন্তানের মুখ দেখতে চায়। রহিমা স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেতে পারে না। সন্তানের কারণে সে তা মেনে নিলেও সে মনে মনে ব্যথা অনুভব করে। মাজার ব্যবসায়ী মজিদ রহিমাকে তার স্বার্থে ব্যবহার করে,। মজিদ নিজের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে কিশোরী জমিলাকে বিয়ে করে। এসব কাজ করতে সে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
অপরদিকে, উদ্দীপকের আফাজ আলীর স্ত্রী সকিনা বেগম বিশ বছরে কোনো সন্তানের মা হতে না পারলে স্বামীর কাছে সন্তান দত্তক নেয়ার ইচ্ছার কথা বলেন। আফাজ আলী স্ত্রী হিসেবে তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। সন্তান লাভের আশায় আফাজ আলী তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হন এবং একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নেন। এভাবে তিনি স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করে তার মর্যাদা দান করেন। যা 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ঠিক বিপরীত।
তাই উদ্দীপকের আফাজ আলী যেভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন মজিদ সেভাবে পারেনি। উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।