| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ভারতের জনৈক ক্যান্সার…’ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – জীবন ও বৃক্ষ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ভারতের জনৈক ক্যান্সার রোগী চিকিৎসার জন্য কাছাড় হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসক তাকে আবার সাক্ষাতের তারিখ দিলে রোগীটি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার আর আসা হবে না ডাক্তারবাবু। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে সবকিছু বিক্রি করেছি, এবার ছোটো ছেলেটাকে পাঁচ হাজার টাকায় বন্ধক রেখে আসলাম। ওকে ছাড়াতে না পারলে বাঁচব না।’ সে মুহূর্তে ডা. রবি কান্নান-এর চোখও অশ্রুসিক্ত হয়। অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে তিনি রোগীটির ছেলেকে মুক্ত করার টাকা, তার এবং তার মতো আরও অনেক মানুষের সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় নিজে বহনের সিদ্ধান্ত নিলেন। সেদিন তিনি বুঝেছেন চিকিৎসা শুধু শরীরের নয়, এটা সমাজেরও একটি দায়িত্ব। এখন পর্যন্ত তিনি ৭,০০০ দরিদ্র ক্যানসার রোগীর বিনা পারিশ্রমিকে অস্ত্রোপচার করছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৪
'আত্মারূপ ফল' স্রষ্টার উপভোগ্য।
বৃক্ষ আমাদের নীরব ভাষায় সার্থকতার গান শোনায় তাই বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।
বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা অনেক সহজ হয়। এজন্য লেখক বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানোর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন। মাটি থেকে রস টেনে নিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করে বৃক্ষ থেমে থাকে না। জীবনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে বৃক্ষকে ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। সেসব ফুল-ফল বৃক্ষ অন্যকে দান করে। তাই মানবজীবনের সার্থকতা খোঁজার ক্ষেত্রে বৃক্ষকে আদর্শ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করার জন্য বৃক্ষের মতো জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর নেই।
'সৃজনশীল মানুষের প্রাপ্তি ও দানে পার্থক্য দেখা যায় না।'- এ বিষয়টি উদ্দীপকে ডা. রবি কান্নানের মানবসেবা ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক পরার্থে আত্মনিবেদনের মাঝেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন। সৃজনশীল মানুষ তার কাজ, চিন্তা ও সেবার মধ্য দিয়ে যা অর্জন করেন, তাই তিনি আবার অপরকে দান করেন। তিনি নিজে পরিপক্ক হন এবং সমাজকে দেন, এই দ্বৈত প্রক্রিয়ায় পার্থক্য হারিয়ে যায়।
উদ্দীপকের রবি কান্নান দরিদ্র ক্যানসার রোগীদের বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা করেন। একটি শিশুকে বন্ধক থেকে মুক্ত করতে আর্থিক সাহায্য দেন। এই সেবার মাধ্যমে ডাক্তার যা প্রাপ্তি করেন- আত্মিক শান্তি, সম্মান, মানবিক তৃপ্তি এসবই তার দান- রোগীর সুস্থতা, সমাজের উপকার। প্রবন্ধের বৃক্ষের মতো- যে ফুল, ফল নিজে ধরে এবং অপরকে দেয়, এই তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রমথ চৌধুরী বৃক্ষের জীবনচক্রের সাথে সৃজনশীল মানুষের কাজের তুলনা করেছেন। সুতরাং উদ্দীপকে সৃজনশীল মানুষের প্রাপ্তি ও দানের একাত্মতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'উদ্দীপকের ডা. রবি কান্নান 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূল কথা পরিপূর্ণভাবে ধারণ করেছেনে'- উক্তিটি সত্য, কারণ তার জীবনদর্শন ও কর্ম বৃক্ষের মতোই বিকাশ, সেবা ও সার্থকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে বৃক্ষের জন্ম, বৃদ্ধি, ফুল ফোটানো, ফল ধারণ, ছায়া ও সৌন্দর্যবান সবকিছুতেই চলে এক নীরব সাধনা। বৃক্ষ সব কষ্ট নীরবে সহ্য করে নিজেকে অন্যের কল্যাণে উৎসর্গ করে। পরোপকারী ব্যক্তিরাও বৃক্ষের মতো নিজেদেরকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করে।
উদ্দীপকের ডা. রবি কান্নানের জীবন 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের বৃক্ষের জীবনদর্শনেরই প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু চিকিৎসক হিসেবে টিকে থাকেননি, তার উপলব্ধি থেকে নিজেকে বিকশিত করেছেন। তার বিনা পারিশ্রমিকে অস্ত্রোপাচার শিশুকে বন্ধক থেকে, মুক্ত করায় সহায়তা করা বৃক্ষের মতো ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবা করার মতো কাজ।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক পরার্থে আত্মনিবেদন করার মধ্যেই মানবজীবনের সার্থকতার কথা বলেছেন। এজন্য তিনি আমাদের বৃক্ষের সাধনা ও ত্যাগকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে বলেছেন। ডা. রবির সেবাও এমনই এটি সাধনা, যার প্রাপ্তি চোখে দেখা যায়-রোগীর সুস্থতা, পরিবারের মুক্তি, সমাজের কৃতজ্ঞতা। তিনি তার কর্মের মাধ্যমে সমাজকে জীবন ও সেবার গূঢ় অর্থ বুঝিয়েছেন। তার জীবন বৃক্ষের মতো নীরব, ধৈর্যশীল, পরোপকারী এবং পরিপূর্ণ, যা 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বার্তাকেই জীবন্ত করে তোলে।