| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইসলাম একটি পরিপূর্ণ…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৩ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে এমন একটি শাস্ত্র আছে যাতে বিস্তারিত দলিল প্রমাণের মাধ্যমে ইবাদাত, দৈনন্দিন আমল, পারস্পরিক আদান-প্রদান, বিচার-ফয়সালা ও রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শরিয়তের হুকুম-আহকাম আলোচনা বিধান অনন্য অবদান রেখেছেন। তাদের মধ্যে একজনের জন্ম ও যুগসৃষ্ট বহু মাসয়ালার দলিলভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে কিছুসংখ্যক কুফায়। তিনি কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৫০ হিজরিতে তিনি ইন্তিকাল করেন ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
মাযহাব অর্থ পথ, মত ও দল।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.) ছিলেন হাম্বলী মাযহারের প্রতিষ্ঠাতা। হাম্বলী মাহযাবের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হাম্বলী মাযহাবে আল কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের ওপর ভিত্তি করে হুকুম গ্রহণ করা হয়। 1 হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সনদের বিশুদ্ধতার প্রতি তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখা হয়। মারফু ও মাওকুফ হাদিসকে সমান মূল্য দেওয়া হয়। মদিনাবাসীদের আমল দ্বারা দলিল গ্রহণ, স্বাধীন চিন্তার বিরোধী এবং কিয়াস যথাসম্ভব বর্জন করা হয়েছে। সুতরাং এ মাযহাব যথেষ্ট সমৃদ্ধিশালী ও স্বতন্ত্র ।
উদ্দীপকের শুরুতে ফিক্হশাস্ত্রের কথা বলা হয়েছে ।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এ জীবনব্যবস্থা একটি শাস্ত্র, যা ফিক্হশাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। ফিকহশাস্ত্রে বিস্তারিত দলীল প্রমানের মাধ্যমে ইবাদাত, দৈনন্দিন আমল, আখলাক, পারস্পরিক আদান-প্রদান, বিচার-ফয়সালা ও রাষ্ট্রীয় বিষয়টি সম্পর্কে এই ফিকহশাস্ত্রেই আলোচনা করা হয়েছে।
এই ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব সুদূর প্রসারী। ফিকহশাস্ত্র হলো দ্বীনের স্তম্ভ। ফিক্হশাস্ত্র শরিয়তের ব্যবহারিক দিকের প্রধান ভিত্তি। ফিকহের মাহাত্মা, গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। ইমাম বায়হাকি ও দারে কুতনি বর্ণনা করেন, প্রত্যেক বস্তুর খুঁটি রয়েছে, আর এ দ্বীন ইসলামের খুঁটি হলো ফিক্হ।
ফিকহশাস্ত্রের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ হয়। ইসলামি হুকুম আহকাম অনুশীলনের মাধ্যমে সে আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়। আল্লাহ বলেন, আর যাকে হিকমত বা ফিক্হের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে দেওয়া হয়েছে অশেষ কল্যাণ। (আল-বাকারা : ২৬৯) ফিক্হশাস্ত্র চর্চা শ্রেষ্ঠতম ইবাদাত। রাসুল (সা.) বলেন, ফিক্হ চর্চার মজলিস ষাট বছরের ইবাদাত থেকে উত্তম। এই ফিকহশাস্ত্রে শরয়ি বিধানের ব্যাখ্যা। বিন্যাস, সহজ উপস্থাপন, ইসলামি শরিয়তের সংরক্ষণ, ইত্যাদি কারণে ফিক্হশাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। আমরা ফিক্হশাস্ত্র যেন চর্চা করতে পারি, আল্লাহ সে তৌফিক যেন দান করে ।
যা বিশিষ্ট বিদ্বান ইমাম আবু হানিফা কুফায় জন্ম গ্রহণ করেন । ইলম চর্চা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তিনি ফিক্হশাস্ত্রের অন্যতম পথিকৃৎ। ফিক্হ চর্চা ও এতে অবদানই মানবকল্যাণ সাধন হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা মজলিসে শূরা গঠন করেন। যার মাধ্যমে ফিকহশাস্ত্র রচনা ও সংকলন শুরু করেন। ফিক্হ সংকলনের শক্তিশালী মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ৪০ সদস্যবিশিষ্ট ফিক্হ বোর্ড গঠন করেন। সুদীর্ঘ ২২ বছরের অক্লান্ত সাধনাবলে ৮৩ হাজার মাসয়ালা সংবলিত কুতুবে হানাফিয়্যাহ নামে একটি বিশাল পাণ্ডুলিপি সম্পাদন করেন। এই বিশাল কাজটি মানবকল্যাণে কতটা অবদান রেখেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি মাজলিশে তালিম নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিক্ষাদানের নিমিত্তে তিনি এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এর অবদানও অনেক। তিনি সর্বজনীন ফিক্হ সংকলনে অবদান, উসূলের ভিত্তিতে ফিক্হ সংকলনে অবদান রেখেছেন । সুতরাং তাঁর এই ফিক্হ চর্চা ও সংকলন, সম্পাদন এবং অসংখ্যা গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ফিক্হশাস্ত্রকে করেছেন সমৃদ্ধ। আর এই শাস্ত্র মানবকল্যাণে অনেক বড় ভূমিকা বা অবদান রাখছে । - মানবজাতি সকল কিছুর সমাধান পাচ্ছে এই ফিক্হশাস্ত্রে ।