| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে…’ a – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে রফিক অধ্যাপক জাহাঙ্গির কবিরকে প্রশ্ন করল- স্যার, পবিত্র কুরআনে তো একথা ঘোষণা করা হয়েছে যে, “আমি আপনার ওপর নাযিলকৃত কিতাবে সবকিছুর বিশদ বর্ণনা দিয়েছি।” তাহলে আমাদেরকে কিয়াসের ওপর আমল করতে হবে কেন? অধ্যাপক সাহেব রফিককে কিয়াসের ওপর আমল করার বিষয়টি বুঝিয়ে দিলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
কিয়াস দ্বারা ধারণামূলক জ্ঞান বা عِلْمُ الظَّنِی অর্জিত হয়।
হযরত আলি (রা.) মদ্যপায়ীর শাস্তি সম্পর্কে বলেছেন, মদ্যপায়ী যখন মদ পান করে, তখন তাদের নেশা হয়। যখন নেশা হয়, তখন অনর্থক বকাবকি করে। যখন অনর্থক বকাবকি করে, তখন মিথ্যা অপবাদ দেয়। তাই তিনি মদ্যপান করাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ওপর কিয়াস তথা অনুমান করে তার শাস্তি আশি বেত্রাঘাত নির্ধারণ করলেন।
হওয়ার জন্য অন্যকোনো ইল্লাতও তো হতে পারে।" কিন্তু তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। তাদের প্রদত্ত প্রমাণাদিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পবিত্র কুরআন, হাদিস ও যুক্তি দ্বারা তাদের দলিলাদি কার্যকারিতা রহিত করেছেন। সুতরাং এটি অবশ্যই বলা যায়, কিয়াসের ওপর আমল করা ওয়াজিব। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রশ্নের সাথে আহলে যাওয়াহের, শিয়া, রাফেযি ও খারিজি প্রভৃতি ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের কিয়াস সম্পর্কিত বাতিল মতামত সাদৃশ্যপূর্ণ।
রফিকের প্রশ্নের সাথে ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের মতের সাদৃশ্য রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একদল ভ্রান্ত মনে করে কিয়াস গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য নয়। কেননা পবিত্র কুরআনে সবকিছুর বর্ণনা রয়েছে, আবার বনি ইসরাইলিরা কিয়াস করার কারণে ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া কিয়াস মৌলিকভাবে সন্দেহজনক, রফিকও ভ্রান্ত দলের প্রদত্ত বক্তব্যের জবাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বলেন- ১. কিয়াস কেবল কিতাবুল্লাহর মর্ম উদ্ঘাটন করে, এটা পৃথকভাবে কোনো হুকুম সাব্যস্ত করে না। সুতরাং এটা আদৌ কুরআনের পরিপন্থি নয়। ২. বনি ইসরাইলের কিয়াস ছিল হঠকারিতা ও দাম্ভিকতার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমাদের কিয়াস হলো ইসলামের বিধান আবিষ্কার ও আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে, যা আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। ৩. কিয়াসের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও এটা আমলকে বাধ্যতামূলক করতে নিষেধ করে না।। তবে একথা বলা যায়, সন্দেহ দৃঢ় প্রত্যয়যুক্ত জ্ঞান বা عِلْمٌ يَقِيْنِ এর পরিপন্থি। আর এমনটি হওয়াও নাজায়েয নয়।
কিয়াসের ওপর আমল করা সম্পর্কে রফিকের প্রশ্ন হলো, পবিত্র কুরআনে সবকিছুর বিশদ বর্ণনা করা সত্ত্বেও আমাদেরকে কিয়াসের ওপর আমল করতে হবে কেন। তার এ বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যৌক্তিকও নয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, কিয়াসের মাধ্যমে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের ওপর আমল করা ওয়াজিব বা অপরিহার্য। যদিও কেউ কেউ এ মতের বিপক্ষে রয়েছেন। তবে যারা এ মতের বিরোধিতা করছেন তাদের অভিমত কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।